পড়তে চাইলে আয়ারল্যান্ডে

Related image

আয়ারল্যান্ড উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে অবস্থিত একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। আধুনিক সার্বভৌম রাষ্ট্রটি আয়ারল্যান্ড দ্বীপের পাঁচ-ষষ্ঠাংশ নিয়ে গঠিত। ৩ মে ১৯২১ সালে  যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রথমে আইরিশ ফ্রি স্টেট এবং পরবর্তীতে প্রজাতন্ত্রী আয়ারল্যান্ড গঠন করে। দেশটির রাজধানী ডাবলিন যা আয়ারল্যান্ড দ্বীপের সর্ববৃহৎ শহর। ইউরোপের তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ এবং বিশ্বের ২০তম বৃহত্তম দ্বীপ।

আয়ারল্যান্ড একটি ছোট্ট দেশ আয়তন মাত্র ৭০ হাজার বর্গকিলোমিটার। আয়ারল্যান্ডের মোট জনসংখ্যা মাত্র ৪০ লাখের কাছাকাছি। আইরিশরা খুবই নম্র, ভদ্র এবং অতিথিপরায়ন। এ দেশের প্রধান দুটি ভাষা হলো- আইরিশ এবং ইংরেজি।

আয়ারল্যান্ডে প্রায় ৫০ হাজারের মতো মুসলমান বসবাস করেন, যা তাদের মোট জনসংখ্যার ১%।

Image Source: thepienews.com

উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য আয়ারল্যান্ড ধীরে ধীরে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীর কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আইরিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে প্রচুর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। আয়ারল্যান্ডে আপনি অনার্স, মাস্টার্স, ডক্টরাল বা  পিএইচডি ডিগ্রি নিতে পারবেন।

অনার্সের কোর্সের মেয়াদ তিন থেকে চার বছর, মাস্টার্স কোর্স এক থেকে দুই বছর এবং পিএইচডি তিন থেকে চার বছর মেয়াদি হয়ে থাকে। তবে ভেটেরিনারি মেডিসিন, আর্কিটেকচার, ডেনটিস্ট এবং মেডিসিন কোর্সের মেয়াদ ছয় বছর হয়ে থাকে।

Related image

আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ফল সেমিস্টারে এবং জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত স্প্রিং এ দুটি সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।

আয়ারল্যান্ডের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বিশ্ববিদ্যালয় হলো-

  • Dublin Business School
  • Dublin Institute of Technology
  • Maynooth University
  • University College Dublin
  • Dublin City University
  • National College of Ireland
  • Trinity College Dublin
  • University College Cork

যে সব বিষয় পড়ানো হয়

অ্যাকাউটিং, অ্যাগ্রিকালচার, অ্যানাটমি, অ্যাপ্লায়েড ম্যাথমেটিক্স, আর্কিটেকচার, ডিজাইন, আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ, অডিও ইঞ্জিনিয়ারিং, অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং, এভিয়েশন স্টাডিজ, ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, বায়োকেমিস্ট্রি, বায়োলজিক্যাল অ্যান্ড ফিজিক্যাল সায়েন্স, বায়োমেডিকেল সায়েন্স, বায়োটেকনোলজি, সিরামিকস, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া, ডান্স, ড্রামা, ই-কর্মাস, ইকোনমিকস, এবরোজিনাল এন্ড ইনডিজিনাস স্টাডি, অলটারনেটিভ মেডিসিন, এনথ্রপলজি, অ্যাপায়েড ম্যাথমেটিকস, একুয়াকালচার, কেমিস্ট্রি, এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজ, বিজনেস এন্ড ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি বিষয়ে ব্যাচেলর্স ও মাস্টার্স কোর্সে পড়াশোনা করতে পারেন।

আয়ারল্যান্ডে ব্যাচেলর কোর্সের জন্য ১২ বছরের শিক্ষাজীবন অর্থাৎ এইচএসসি পাস হতে হবে। আইএলটিএস স্কোর ৫.৫ থেকে ৬.০ পয়েন্ট হতে হবে বা টোফেলের সিবিটিতে ২১৩ অথবা আইবিটিতে ৭৯ থেকে ৮০ পয়েন্ট হতে হবে।

এবং মাস্টার্স কোর্সের জন্য  ১৬ বছরের শিক্ষাজীবন সম্পন্ন হতে হবে। আইএলটিএস স্কোর ৬.০ থেকে ৬.৫ পয়েন্ট হতে হবে, টোফেলের সিবিটিতে ২১৩ থেকে ২৩৭ অথবা আইবিটিতে ৭৯ থেকে ৯৩ পয়েন্ট হতে হবে।

Related image

উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা

দেশটির শিক্ষার মান খুব উন্নত এবং আইরিশ ডিগ্রির গ্রহণযোগ্যতা পৃথিবী জুড়ে। আয়ারল্যান্ডের প্রধান ভাষা আইরিশ হলেও, এখানের দাপ্তরিক ভাষা ইংরেজি। তাই এখানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রচুর ইংরেজি কোর্স রয়েছে।

আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে ইচ্ছুক, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ভর্তি শাখা’ বরাবর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি সহ আবেদন করতে হয়।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বিভাগে যোগাযোগ করে ভর্তি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন ফর্মটি তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকেও ডাউনলোড করে নিতে পারেন। আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে আবেদন করার সুবিধা রয়েছে।

Image Source: flickr.com

বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের জন্য সঠিক ভাবে পূরণকৃত আবেদনপত্র, সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের কপি, আবেদনপত্রের মূল্য পরিশোধের কপি, টোফেল/আইএলটিএস সনদের কপি, যিনি আপনার সকল খরচ বহন করবেন তার অর্থাৎ স্পন্সরের ব্যাংক একাউন্ট নম্বর ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পাসপোর্টের ফটোকপি ইত্যাদি কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়। আবেদন প্রক্রিয়ার নিয়মাবলী বিশ্ববিদ্যালয় পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হবে।

আপনাকে কমপক্ষে ১ বছর সময় হাতে রেখে ভর্তির প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। কারণ আবেদন করার পর ভিসা পেতে বেশ সময় লাগে। আবেদনপত্র জমা দেয়ার পর ৬-৮ মাসের মধ্যে কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিবেন।

আবেদনের পর আপনি যদি অফার লেটার পেয়ে যান তাহলে ভিসার জন্য ভারতের আইরিশ দূতাবাসে যোগাযোগ করতে হবে। কারণ বাংলাদেশে আয়ারল্যান্ডের কোনো দূতাবাস নেই।

Related image

স্কলারশিপের সুযোগ

আয়ারল্যান্ডে স্কলারশিপ নিয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। আয়ারল্যান্ডে স্কলারশিপ মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে দেয়া হয়ে থাকে।

ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুবিধা

শিক্ষার্থীরা অনার্স অথবা মাস্টার্সের ক্ষেত্রে ক্রেডিট ট্রান্সফার করার সুযোগ রয়েছে। তবে কোর্স অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়ে গেলে, ক্রেডিট ট্রান্সফার করা যাবে না।

Image Source: newjobradio.com

ক্রেডিট ট্রান্সফারের জন্য যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোর্স সম্পন্ন করা হয়েছে, সেখানকার কাগজপত্র এবং একাডেমিক ট্রান্সক্রিপটের অফিশিয়াল কপি জমা দিতে হবে।

কাজের সুযোগ

বিদেশি শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজের অনুমতি দেয়া হয়ে থাকে। তবে ছুটির সময় ফুল টাইম কাজ করা যায়।

বিদেশি শিক্ষার্থীরা ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই পার্টটাইম কাজের অনুমতি পান। রেস্টুরেন্ট, দোকান, শপিং মলে ইত্যাদিতে শিক্ষার্থীদের কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

আকর্ষণীয় স্থান

ছবির চেয়েও সুন্দর আয়ারল্যান্ডের সবুজ প্রকৃতি। পড়াশোনার পাশাপাশি উপভোগ করতে পারবেন আয়ারল্যান্ডের নির্মল সবুজ প্রকৃতি। আয়ারল্যান্ডের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিন শহর।

Image Source: youtube.com

আয়ারল্যান্ডে এসে আপনি  যদি ডাবলিন শহর ঘুরতে না যান, তাহলে আয়ারল্যান্ড ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। এই শহরটি দিনে এবং রাতে সবসময়ই জীবন্ত থাকে। ডাবলিন শহর মিউজিক,পাব, ক্লাব এবং স্ট্রিট কালচারের জন্য জনপ্রিয়।

এছাড়াও আকর্ষণীয় স্থানের মধ্যে আরো রয়েছে কনেমারা ন্যাশনাল পার্ক, কাইলিমো অ্যাবি, স্লিভ লীগ ইত্যাদি।

Featured Image: ireland.com

The post পড়তে চাইলে আয়ারল্যান্ডে appeared first on Youth Carnival.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *