ভোকেশনাল পেশা ও ক্যারিয়ার শিক্ষার গুরুত্ব

মানুষ জীবিকা অর্জনের জন্য কাজ করে। একজন মানুষ তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার আলোকেই এই কাজ করতে সক্ষম হয়। কাজের বিনিময়ে অর্থ-এই দীক্ষায় দীক্ষিত হয়েই মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য যেকোনো একটি কাজ বেছে নেয়। এধরণের কাজের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয় ভোকেশন বা বৃত্তি।

Source: cvt-myanmar.com

ভোকেশন ও বৃত্তির সংজ্ঞা

ভোকেশন হচ্ছে এমন এক ধরণের কাজ যার মাধ্যমে জীবিকা অর্জন করা সম্ভব হয়। জীবিকা অর্জনের জন্য যে কাজের আশ্রয় নেয়া হয় সেটাকেই বলে ভোকেশনাল বৃত্তি বা পেশা। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য এই পেশার গুরুত্ব অসীম। পেশা হচ্ছে এমন ধরণের কাজ, যেটা সম্পন্ন করার জন্য মানুষের বিশেষ ধরণের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। বৃত্তি বা পেশা যদিও প্রায় সময়েই একই অর্থে ব্যবহৃত হয় কিন্তু এদের মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে। পেশার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা প্রশিক্ষনের প্রয়োজন হয় যা বৃত্তির ক্ষেত্রে হয় না। সুতরাং, কাজের উপরেই নির্ভর করে কোনটি পেশা ও কোনটি বৃত্তি।

Source: wisegeek.com

উদাহরণস্বরূপ, একজন আর্কিটেকচার যদি কোনো বিল্ডিংয়ের নকশা করে থাকেন তাহলে সেটাকে বলা যাবে পেশা এবং যে বিল্ডিংটি দাড় করানোর জন্য কায়িক পরিশ্রম করবে, তার কাজকে বলা হবে বৃত্তি।অন্যদিকে ক্যারিয়ার, পেশা ও চাকরী শব্দগুলো সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত হলেও এদের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ক্যারিয়ার মূলত ব্যাক্তিজীবনেরর সাথে যুক্ত কর্মকান্ড ও অভিজ্ঞতার সম্মিলিত রুপ। আর পেশা হচ্ছে এক ধরণের কাজ। এবং চাকরী হচ্ছে পেশার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নির্দিষ্ট কিছু পদ বা অবস্থান।

Source: navva.org

ভোকেশন ও বৃত্তির গুরুত্ব

ক্যারিয়ার গঠনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরণের সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন পড়ে এবং এর মাঝে প্রায় প্রত্যেকটি সিদ্ধান্তই সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ভবিষ্যৎ জীবনের মান, কর্মকান্ড, অর্থ উপার্জন, জীবনের গতিসহ অনেক কিছুই নির্ভর করে এর উপর। একইসাথে আমাদের একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের পরিবার, সমাজ, জাতি এমনকি বৈশ্বিক পর্যায়েও সেটা প্রভাব ফেলতে পারে। যেহেতু ক্যারিয়ার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো খুবই জরুরী, সেহেতু এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ভবিষ্যতের কথা চিন্তাভাবনা করে সুষ্ঠু মনে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় একাকী সিদ্ধান্ত না নিয়ে বেশ কয়েকজন মিলে সিদ্ধান্ত নিলে সেটা সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

Source: cvt-myanmar.com

যখন আমরা একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করতে শুরু করি তখন ধীরে ধীরে আমাদের এসব বিষয় সম্পর্কে আগ্রহ বাড়তে শুরু করে। যখন আমরা বুঝতে পারি যে, ক্যারিয়ার সংক্রান্ত শিক্ষাগুলো আমাদের কাজে লাগছে ও ভবিষ্যতেও লাগবে তখন আমরা এমনিতেই অনুপ্রেরণা পাই। এই অনুপ্রেরণা টিকিয়ে রাখাটা জরুরী। এতে শিক্ষার আগ্রহ বাড়ে। বিশ্ব ও সমাজের জন্য আমাদের সবারই কাজ করা প্রয়োজন। সমাজে নানাধরনের কাজ করে আমরা সমাজকে টিকে থাকি, চাহিদা মেটাই। কেউ নিজের চাহিদা মেটায়, কেউ অন্যের। এতে কিন্তু সমাজও লাভবান হয়। ক্যারিয়ার শিক্ষার কারণে আমরা আমাদের পছন্দের কাজগুলো বেছে নিতে পারি। এতে করে সমাজের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিও পরিবর্তন হয়।

Source: bmbf.de

ক্যারিয়ার শিক্ষা আমাদের অগ্রগতির পথ সুগম করে দেয়। যার ফলে আমরা দেশের বাইরেও কাজের জন্য প্রস্তুত হতে পারি। বর্তমানে দেশে বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় উচ্চ পারিশ্রমিকে কাজের জন্য মানুষ নেয়া হয়। এই চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য দরকার পড়বে উচ্চ শিক্ষার। আর উচ শিক্ষার পথ আরো বেশি সুন্দর করে দেয়ার জন্য ক্যারিয়ার শিক্ষার গুরুত্ব অনেক। তাছাড়া যতই দিন যাচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন কাজে যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার পরিমাণ বাড়ছে। প্রায় প্রত্যেক কোম্পানিতেই দেখা যায়, একই পদে লোক নিয়োগ দেয়ার জন্য পূর্বের বারের চেয়ে বেশি যোগ্যতার প্রয়োজন পড়ে। যে কোনো কাজের জন্যেই নূন্যতম ভাষার দক্ষতা, যোগাযোগ দক্ষতা, গাণিতিক দক্ষতা, টেকনোলজিক্যাল দক্ষতা এবং সম্পর্ক স্থাপনের দৃষ্টিভঙ্গির দরকার পড়ে। যা আমাদের পক্ষে ক্যারিয়ার শিক্ষা ছাড়া পাওয়া সম্ভব নয়।

Source: chrdri.net

প্রত্যেক চাকরী বা উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যবসায় পদার্পণের জন্য নির্দিষ্ট কিছু দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে। এসব দক্ষতাগুলোকে শেখার জন্য দরকার পড়ে ক্যারিয়ার শিক্ষার। একজন উদ্যোক্তা বা চাকরিজীবীর কিছু সাধারণ দক্ষতা থাকা উচিত। সেগুলো হচ্ছে,

১. জটিল বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করার দক্ষতা থাকতে হবে।

২. বিভিন্ন সমস্যায় দ্রুত সমাধান বের করার ক্ষমতা থাকতে হবে।

৩. যেকোনো বিষয়ে আস্থা রাখার মতো মন মানসিকতা থাকতে হবে।

৪. বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক অবস্থায় খাপ খাওয়ানোর দক্ষতা থাকতে হবে।

৫. অসাধারণ যোগাযোগ দক্ষতা থাকতে হবে।

৬. যেকোনো বিষয়ে বিচক্ষণতার সাথে নেগোসিয়েশন করার দক্ষতা থাকতে হবে।

৭. অসাধারণ ইন্টারপার্সোনাল দক্ষতার অধিকারী হতে হবে।

Source: mondragon.edu

আমাদের ভবিষ্যতের পরিকল্পনার জন্য ক্যারিয়ার শিক্ষার গুরুত্ব অনেক। এর মাধ্যমে আমরা শুধুমাত্র শিক্ষা, বৃত্তি কিংবা কর্মক্ষেত্রের পরিকল্পনাই করি না, বরং সম্পূর্ণ জীবনের পরিকল্পনাই করি। আর এই জিনিস সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তনশীল। তবে পরিকল্পনা মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলে, আত্মবিশ্বাসী করে, লক্ষ্যে পৌঁছানোর দিকনির্দেশনা দেয়। আর এসবের জন্যে শুরু থেকেই দরকার ক্যারিয়ার শিক্ষার। ক্যারিয়ার শিক্ষাই পারে এসব বিষয় সম্পর্কে সচেতন করতে।

ক্যারিয়ার শিক্ষার মাধ্যমে আমরা নিত্য নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে পারি। বিভিন্ন ধরণের কাজের সাথেও পরিচিত হই, নতুন ধরণের সংযোগ তৈরি করতে পারি। ক্যারিয়ার শিক্ষার মাধ্যমে আমরা নিজেদের প্রতি সহনশীলতা অনুভব করি এবং নিজেদের সহকর্মী ও সংবেদনশীল ব্যক্তিবর্গের সাথে মেলামেশার মাধ্যমে নতুন কিছু শেখার সুযোগ লাভ করি। জীবনের প্রত্যেক ধাপে নিজেকে গড়ে তোলার জন্য ও শিক্ষিত এবং যোগ্য করে তোলার জন্য ক্যারিয়ারের ভূমিকা অপরিসীম।

Featured Image: blog.globaljobs.network

The post ভোকেশনাল পেশা ও ক্যারিয়ার শিক্ষার গুরুত্ব appeared first on Youth Carnival.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *