যেভাবে একজন কুরিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন

যদিও বর্তমানে প্রায় সবকিছুই ইলেক্ট্রনিক মেইল ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমেই আদান-প্রদান করা যায় কিন্তু কুরিয়ার সার্ভিস ও পোস্টাল সার্ভিসের গুরুত্ব কখনোই কমবে না। একজন কুরিয়ার বিভিন্ন ব্যাক্তির ডকুমেন্ট ও অন্যান্য জিনিস আদান প্রদানের কাজ করে থাকেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন কোম্পানির বিষয়বস্তু আদান প্রদানের কাজও করে থাকেন। যেভাবে একজন কুরিয়ার হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়বেন, তাই নিয়েই আজকের এই আলোচনা।

Source: veloxexpress.co

কুরিয়ার পদটি আপনার জন্যে উপযুক্ত কিনা  ভেবে দেখুন

একজন কুরিয়ারের মূল কাজ হচ্ছে, কোনো ব্যাক্তি বা কোম্পানির বিভিন্ন ধরণের ডকুমেন্ট, কাগজপত্রসহ বিভিন্ন বিষয়বস্তুর আদান প্রদান করা। একজন কুরিয়ারের বেতন ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু এর বিপরীতে আপনাকে অনেক কষ্ট করতে হবে। সঠিক নেটওয়ার্কের মধ্যে কাগজপত্রের আদানপ্রদান করা, যেকোনো স্থানের বিভিন্ন ধরণের রুট সম্পর্কে জানা, যেকোনো সময় যেকোনো জিনিস আদানপ্রদানসহ আরো অনেক ধরণের কাজ রয়েছে একজন কুরিয়ারের।

Source: theindiansun.com.au

সুতরাং ভেবে দেখুন এই পদে আপনি ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন কিনা। এই পদটি আপনার প্যাশন ও দক্ষতার সাথে কতটুকু উপযুক্ত, তা নিয়েও ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।

যেকোনো বিষয়ে পড়ালেখা করলেই হবে

কম্পিউটার সায়েন্স কিংবা বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, যেকোনো বিষয়েই আপনি পড়ালেখা করতে পারেন। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একজন কুরিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন প্রায় নেই বললেই চলে। তবে আপনি যে বিষয় নিয়েই পড়ালেখা করুন না কেনো, এতে করে আপনাকে রিজিউমি বা সিভির ওজন ভারী হয়ে উঠবে যা আপনাকে এই বিষয়ে ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।

Source: courierexchange.co.uk

এছাড়াও, বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টার থেকে কয়েক মাসেই কুরিয়ার সম্পর্কিত বিষয়গুলো সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। কিছু কিছু জায়গায় ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থাও থাকে। সেখানে ইন্টার্নশিপ করে নিজেকে ঝালাই করে নিতে পারেন।

আপনার এলাকার বিভিন্ন রুট ও রুটিং সিস্টেম সম্পর্কে ধারণা নিন

বর্তমানে কুরিয়ার হিসেবে নিয়োগ দেয়ার পূর্বে একজন ওয়ার্কারকে মূলত তার রুটিং সম্পর্কে ধারণা আছে কিনা সে বিষয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। এই বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করার জন্য বাজারে অনেক ধরণের মানচিত্র রয়েছে, যেগুলো কিনে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে হতে পারে। কিংবা আপনার মোবাইলেই আপনার এলাকার মানচিত্র রয়েছে, এমন একটি সফটওয়্যার ডাউনলোড করেও আপনি এই কাজটি করতে পারবেন। একজন কুরিয়ারকে নির্দিষ্ট স্থান ও এর অবস্থান, সব ধরণের রুটিং সিস্টেম সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান থাকতে হয়।

Source: deliveryexpressinc.com

এছাড়াও বর্তমানে প্রায় সব কোম্পানির মোবাইলে গুগল ম্যাপ ইন্সটল করা থাকে। ফলে আপনি সেখানে সার্চ করে সহজেই এই বিষয় সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে পারবেন।

শুরুতে ছোটোখাটো কোম্পানিতে কুরিয়ার হিসেবে কাজ করুন

যদি আপনি কুরিয়ার হিসেবে কোনো কোম্পানি থেকে ইন্টার্নি করে থাকেন, তাহলে ছোটোখাটো কোম্পানিতে কাজ করার প্রয়োজন পড়বে না। আর যদি আগে কোথাও ইন্টার্নশিপ না করে থাকেন, তাহলে বড় কোম্পানিতে কুরিয়ার হিসেবে কাজ করার পূর্বে ছোটোখাটো কোম্পানিতে কাজ করুন। এতে অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষা দুইই লাভ করতে পারবেন।

Source: copyexpress.co.za

কুরিয়ার হিসেবে বড় কোম্পানিতে চাকরি খুঁজুন

ছোটোখাটো কোম্পানিতে চাকরি করার পর, বড় বড় কোম্পানির দিকে চলে আসুন। তবে খেয়াল রাখবেন, যেন কাজের দক্ষতা ও যোগ্যতা দুইই বজায় থাকে। অনেক সময়েই দেখা যায়, ছোটোখাটো কোম্পানিতে কাজ করার জন্যে যেসকল দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে, বড় কোম্পানির ক্ষেত্রে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে। কারণ, বড় কোম্পানিগুলোতে কাজের ক্ষেত্রও বড় হয়।

Source: bridgerdelivery.com

বড় বড় কোম্পানিগুলোতে কাজ পাওয়ার জন্যে ফাইভার, লিংকডিন, মনস্টার, গ্লাসডোরের মতো ওয়েবসাইটগুলোতে চাকরী খুঁজতে পারেন। এগুলোতে প্রফেশনালি চাকরি খোঁজা যায়। তবে মনে রাখবেন, বড় কোম্পানিগুলোতে চাকরি পেতে হলে আপনাকে আরো বেশি জানতে হবে। কার্যপদ্ধতি ও কৌশলে আরো পারদর্শী হতে হবে।

Source: lovemoney.com

বিভিন্ন পেশাদার প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটিতে যোগ দিন

কুরিয়ারদের জন্য অনলাইনে অনেক ধরণের প্রফেশনাল অরগানাইজেশন, কমিউনিটি ও ফোরাম রয়েছে। সেগুলোতে যোগদান করতে পারেন। যদি কখনো রুট, কুরিয়ারের নিয়মকানুন, কুরিয়ার সিস্টেম, পেমেন্ট মেথড কিংবা অন্য যেকোনো কিছু নিয়ে সমস্যায় পড়েন, তাহলে সেসব ফোরাম থেকে সাহায্য পেতে পারবেন। তাছাড়া অনলাইন ফোরাম এবং কমিউনিটির মিটআপে যোগদান করলেও অনেক শিক্ষা এবং দক্ষতা অর্জন করা যায়।

Source: courierservicesslondon.wordpress.com

নতুন প্রযুক্তির সাথে আপ টু ডেট থাকার চেষ্টা করুন

বাজারে নতুন নতুন রুটিং অ্যাপ্লিকেশন, কোম্পানির লিস্ট, সাইকেল, বাইক ইত্যাদি আসছে। যার ফলে, একজন কুরিয়ারকে অনেক কিছুই নতুন করে শিখতে হচ্ছে। যারা শিখছেন না, তারা পেছনে পড়ে যাচ্ছেন। নতুন নতুন অ্যাপ দিয়েই এখন বেশিরভাগ কোম্পানি তাদের কুরিয়ার সার্ভিসের কাজ চালাচ্ছে। তাই, আপ টু ডেট থাকাটা জরুরি।

Source: kamloopsthisweek.com

যে কারণে কুরিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন

প্রযুক্তির এই যুগেও কুরিয়ারের উপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে। আর তাই, প্রতিনিয়তই কোম্পানিগুলোতে কুরিয়ার রিলেটেড বিভিন্ন ধরণের ক্যারিয়ার খাত গড়ে উঠছে, যার মধ্যে কুরিয়ার, ড্রাইভার, রাইডার, সার্ভিস বয় ইত্যাদি অন্যতম। কুরিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেসব কারণে,

১. প্রায় প্রত্যেক কোম্পানিতেই ডকুমেন্টসহ বিভিন্ন বিষয়বস্তু প্রেরণ করার জন্য কুরিয়ার সার্ভিসের প্রয়োজন পড়ে।

২. এই খাতে কাজের শেষ নেই।

৩. এই কাজে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন জিনিস শিখতে পারবেন ও নতুন নতুন মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারবেন।

৪. নিজের ইচ্ছেমতো নিজের কাজকে সাজিয়ে তুলতে পারবেন।

৫. কুরিয়ারদের ফোরামটাই অন্যরকম হয়। তাই কমিউনিটিতেও শেখার অনেক কিছুই থাকছে।

Source: ctrack.co.uk

কুরিয়ারদের প্রকারভেদ

আপনি যদি কুরিয়ার হিসেবে দক্ষ না হয়ে থাকেন, কিন্তু কুরিয়ার খাতেই ক্যারিয়ার গড়তে পছন্দ করেন, তাহলে আপনি চাইলে কুরিয়ারদের অন্যান্য ভাগে কাজ করতে পারেন। যেমন,

Source: eleapsoftware.com

ডেলিভারি ড্রাইভার

প্রায় প্রত্যেক কোম্পানিতেই কুরিয়ারদের পাশাপাশি ডেলিভারি ড্রাইভারের দরকার পড়ে, যেখানে আপনি কুরিয়ারের পাশাপাশি ড্রাইভিং করেও আয় করতে পারেন। বিভিন্ন ট্রেইনিং কোর্স করে সেখান থেকে ড্রাইভার হিসেবে সার্টিফিকেট অর্জন করে, একজন প্রফেশনাল ডেলিভারি ড্রাইভার হিসেবে কাজ করতে পারবেন।

Source: tripspark.com

রুট মনিটর

বড় বড় কোম্পানিতে কুরিয়ারদের রুট ম্যানেজমেন্ট ও এর সঠিক নির্দেশনা দেয়ার জন্য মূল অফিসে একজন ফুট মনিটর থাকেন। রুট মনিটর মূলত কম্পিউটারর স্ক্রিন থেকে সঠিক তথ্য ও রুট সম্পর্কে কুরিয়ারদের অবগত করেন।

Featured Image: nindelivers.com

The post যেভাবে একজন কুরিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন appeared first on Youth Carnival.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *