যে ৭টি কারণে উচ্চশিক্ষার জন্য সুইজারল্যান্ডে যেতে পারেন

সুইজারল্যান্ড বা  সুইস ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত উন্নত ও সুন্দর একটি রাষ্ট্র, যা ইউরোপের ভূস্বর্গ হিসেবে পরিচিত। এর উত্তরে জার্মানি, পূর্বে অস্ট্রিয়া ও লিশটেনস্টাইন, দক্ষিণে ইতালি এবং পশ্চিমে ফ্রান্স। সুইজারল্যান্ড একটি ক্ষুদ্র পর্বতময় দেশ।

দেশটির রাজধানী শহর বের্ন। এটি মূলত সরকারি এবং প্রশাসনিক শহর। বিখ্যাত অন্য দুটি শহর হলো জুরিখ এবং জেনিভা। জুরিখ শহরের বাসিন্দারা জার্মান এবং জেনিভা শহরের বাসিন্দারা ফরাসি ভাষায় কথা বলে। সুইস মুদ্রার নাম সুইস ফ্রাংক। এটি পৃথিবীর ধনী রাষ্ট্রসমূহের অন্যতম।

আল্পস পর্বতমালা ও প্রশস্ত হ্রদ সুইজারল্যান্ডকে অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে রূপে ভূষিত করেছে। বিশ্বের পর্যটকদের জন্য এটি আকর্ষণীয় একটি দেশ। দেশটির রাজনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত সুস্থির। সুইস সরকারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিবছর ১লা জানুয়ারি এর রাষ্ট্রপতি পরিবর্তিত হয়।

Image Source: roughguide.com

সুইজারল্যান্ডের ঘড়ি, ট্রেন, চকলেট এবং পনিরের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। অবশ্য সুইস ব্যাংকসমূহ কালো টাকা নিরাপদের সংরক্ষণের জন্য কুখ্যাত।

সুইজারল্যান্ড বহুভাষী রাষ্ট্র এবং এখানে চারটি রাষ্ট্র ভাষা রয়েছে জার্মান, ফরাসি, ইতালীয় এবং রোমানীয়। বাকিরা স্পেনীয়, পর্তুগিজ আর তুর্কী ভাষায় কথা বলে। সুইজারল্যান্ডের শিক্ষার হার ১০০ শতাংশ। ৫ থেকে ১৬ বছর বয়সে শিক্ষা বাধ্যতামূলক।

উন্নত জীবনযাত্রার মান, উচ্চমানের শিক্ষা ব্যবস্থা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সুবিধার কারণে বিশ্বের অনেক শিক্ষার্থী পাড়ি জমাচ্ছেন সুইজারল্যান্ডে। বাংলাদেশ থেকেও অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য সুইজারল্যান্ডে যেতে আগ্রহী।

উচ্চশিক্ষার জন্য সুইজারল্যান্ডে রয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে ব্যাচেলর্স ডিগ্রি, মাস্টার্স ডিগ্রি, মাস্টার অব অ্যাডভান্সড ডিগ্রি, ডক্টরাল ডিগ্রিসহ বিভিন্ন কোর্স করা যায়। শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন এ দু’টি সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।

সুইজারল্যান্ডের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো,

  • Universite de Fribourg 
  • Universite de Lausanne
  • Universitat Zurich
  • Universitat Bern
  • Universite de Neuchatel

যেসব বিষয় পড়ানো হয়

টেকনিক্যাল কোর্সে উচ্চশিক্ষার জন্য সুইজারল্যান্ড আদর্শ। এছাড়াও সুইজারল্যান্ডে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করা যায় বিশেষত ইন্টারন্যাশনাল ম্যানেজমেন্ট ফাইনান্স, হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি। তাছাড়া বিভিন্ন বিষয় যেমন, একাউন্টিং, ব্যাংকিং, ইকোনমিক, ল, সোশ্যাল ওয়ার্ক, ক্রিমিনোলজি, আর্কিটেকচার, সংস্কৃতি, ভাষাতত্ত্ব, থিওলজি, ফিলোসফি, জার্নালিজম, সাইকোলজি, হেলথ্ কেয়ার, ম্যাথম্যাটিকস, মিডিয়া বিজনেস ইনফরমেশনসহ আরো বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

১। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা

উচ্চ শিক্ষার জন্য সুইজারল্যান্ড একটি আদর্শ দেশ হিসেবে স্বীকৃত। সুইস শিক্ষাব্যবস্থা তাত্ত্বিক নয় গবেষণা ভিত্তিক। এখানে উচ্চশিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে আপনি সবকিছু হাতে কলমে শিখতে পারবেন। বেশ কয়েকটি সুইস বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং শীর্ষ সারিতে আছে।

সুইজারল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফরাসি, জার্মানি এবং ইতালি ভাষায় পড়ানো হয়। তবে ইংরেজি কোর্সও আছে। সেক্ষেত্রে আপনাকে ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী হতে হবে। সেই সাথে আবেদন করার সময় ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণপত্র দেখাতে হবে।  অন্যথায় জার্মান, ফরাসি অথবা ইতালিয়ান যেকোনো একটি ভাষায় পারদর্শী হতে হবে।

Image Source: swisseducation.com

সুইজারল্যান্ডের কয়েকটি কোর্স এত জনপ্রিয়, যে এসব কোর্সে কখনো আসন খালি পাওয়া যায় না। একারণে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে থাকে।

সুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী বিদেশি, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় অনুষদের ৪৫% সদস্য দেশের বাইরে থেকে আগত।

আবেদনকারী ভর্তি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জানার জন্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন।

২। শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ

সুইজারল্যান্ডের পড়াশোনার খরচ একটু বেশি তবে চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই, কেননা সুইজারল্যান্ডের বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তির ব্যবস্থা করে থাকে।

Image Source: jeduka.com

এছাড়াও সুইজারল্যান্ড সরকার ফেডারেল কমিশন ফর স্কলারশিপ ফরেন স্টুডেন্টসের মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ দিয়ে থাকে। তবে এই শিক্ষাবৃত্তি প্রধাণত স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য।

৩। কাজের সুযোগ

উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা খন্ডকালীন কাজ করতে পারেন সপ্তাহে ১৫ ঘণ্টা এবং শর্ত সাপেক্ষে কখনো ফুলটাইম। এক্ষেত্রে বিভিন্ন পত্রিকায়, জব সাইটে বিজ্ঞাপন দেখে অথবা সরাসরি জীবনবৃত্তান্ত দিয়ে চাকরির সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন।

৪।  সুখী ও নিরাপদ দেশ

বিশ্বের সুখী ও নিরাপদ দেশর তালিকায় রয়েছে সুইজারল্যান্ডের নাম। বিশ্বের নিরাপদ দেশের তালিকায় সুইজারল্যান্ডের অবস্থান অষ্টম এবং সুখী দেশের তালিকায় সুইজারল্যান্ডের অবস্থান পঞ্চম।

৫। ভাষা ও সংস্কৃতি বৈচিত্র্য

ভাষা এবং সংস্কৃতি বৈচিত্র্যের মাধ্যমে সারা বিশ্বের মানুষকে আকৃষ্ট করে সুইজারল্যান্ড। সুইজারল্যান্ডে আপনি সীমান্ত অতিক্রম না করেই পাবেন ৪ টি ভাষার (ফ্রেঞ্চ, ইতালিয়ান, জার্মান, রোমানীয়) এবং সংস্কৃতির মানুষের সাথে মেশার সুযোগ।

Image Source: worldatlas.com

সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উপভোগ করার অন্যতম একটি স্থান সুইজারল্যান্ড। এখানের বাসিন্দারা সারা বছর নানা রকম সাংস্কৃতিক উৎসবে মেতে থাকেন।

৬। ইউরোপের প্রাণকেন্দ্র

ইউরোপের প্রাণকেন্দ্র বলা হয় সুইজারল্যান্ডকে। জেনেভাতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার এনজিও অবস্থিত রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানির সদরদপ্তর অবস্থিত সুইজারল্যান্ডে।

আপনি চাইলে আপনার ইউরোপ ভ্রমণের সূচনা করতে পারেন সুইজারল্যান্ড থেকে। কারণ বাসেল, জুরিখ, জেনেভায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে, যার ফলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আপনি সুইজারল্যান্ড থেকে পৌঁছে যেতে পারবেন প্যারিস,রোম, ভিয়েনা এবং বার্লিন শহরে।

এছাড়াও সুইজারল্যান্ডের প্রতিটি শহরে রয়েছে রেল স্টেশন, আপনি চাইলে ট্রেনে ভ্রমণ করেও এসব দেশে যেতে পারেন।

৭। অপরূপ সুন্দর দেশ

বিশ্বের বুকে এক টুকরো স্বর্গ বলা হয় যে দেশটিকে তার নাম সুইজারল্যান্ড। বিশ্বজুড়ে ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে অন্যতম কাঙ্ক্ষিত স্থান। ভ্রমণের জন্য আমাদের অনেকের বাকেট লিস্টে রয়েছে সুইজারল্যান্ডের নাম।

Image Source: blogrouteperfect.com

পর্যটকরা সুইজারল্যান্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে বেশি আকৃষ্ট হয়ে থাকেন। এছাড়া স্কিইং আর পর্বত ভ্রমণের জন্য এখানে প্রচুর পর্যটক আসেন। সুইজারল্যান্ডে বার্নের পুরাতন শহর, সাধু গলের মঠ এবং এবং মন্টি স্যান জিওরজিও সহ ১১টি ইউনেস্কো ঐতিহ্যবাহী স্থান রয়েছে।

Featured Image: loyalplanet.com

The post যে ৭টি কারণে উচ্চশিক্ষার জন্য সুইজারল্যান্ডে যেতে পারেন appeared first on Youth Carnival.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *