১০ জন বিলিনিয়ার যাদের সম্পর্কে আমাদের ধারণা কম

Image Source: wsg.com

বিলিনিয়াররা সবসময় খবরের কাগজের শিরোনামে থাকেন। অধিকাংশ মানুষই বিশ্বের দ্বিতীয়  ধনীব্যক্তি বিল গেটস সম্পর্কে জানেন। তিনি কেবল সম্পত্তি ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য বিখ্যাত নন, এছাড়াও বিশ্বকে ম্যালেরিয়া হাত থেকে রক্ষা করার  জন্য আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

আরও আছেন অপেরা উইনফ্রে, একজন আন্তর্জাতিক মিডিয়া ব্যক্তিত্ব যিনি লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন পরিবর্তন ও উন্নত করতে সহায়তা করেছেন।

সাধারণ মানুষদের কাছে তারা তারকা থেকে কোন অংশে কম নন। তাদের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে আমাদের আগ্রহের শেষ নেই। কিন্তু এমন কয়েকজন বিলিনিয়ার ও সমাজসেবক আছেন যাদের সম্পর্কে আমাদের ধারণা খুব কম। তাদের জনসম্মুখে ও সোশ্যাল মিডিয়া সচরাচর দেখা যায় না। তাদের নাম হয়তো আমাদের কাছে সুপরিচিত নয়, কিন্তু তাদের প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানের তৈরীকৃত পণ্য আমাদের কাছে পরিচিত।

তাদের কোম্পানির পণ্য হয়তো এই মুহুর্তে আপনার ফ্রিজে অথবা ঔষধের বক্সে আছে। তারা তাদের নিজস্ব ব্যবসার ক্ষেত্রে পরিচিত কিন্তু আমাদের কাছে অপরিচিত রয়ে গেছেন। তাহলে চলুন আজ জেনে নেয়া যাক, এমন ১০ জন বিলিনিয়ারের কথা।

বার্নাড আরনল্ট

মোট সম্পত্তি-$৭২ বিলিয়ন

আরনাল্ট  বিশ্বের ৩য় এবং ফ্যাশন শিল্পে ধনীব্যক্তিদের মধ্যে একজন। তিনি ক্রিস্টিয়ান ডায়ার এস এ চেয়ারম্যান এবং এলভিএমএইচ মোট হেনেসি লুই ভিউটন এইচ ইউর চেয়ারম্যান এবং সিইও। এটি একটি ফরাসি আন্তর্জাতিক পণ্য কোম্পানি, যার সদর দপ্তর প্যারিসে অবস্থিত। সেইসাথে আরনাল্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করে থাকেন। ২০০৮ সালে তিনি ব্যক্তিগত একটি প্রমোদতরী কিনেন। এছাড়াও ফ্রান্সের বৃহত্তম সুপার মার্কেটের ১০% তার মালিকানাধীন।

Image Source: time.com

তিনি একজন শৌখিন শিল্প সংগ্রাহকও। তার ব্যক্তিগত সংগ্রহে পিকাসো, হেনরি মুরের মতো বিখ্যাত সব শিল্পীর চিত্রকর্ম সংরক্ষিত আছে। আরনাল্টের কোম্পানি এলভিএমএইচ ফ্রান্সের ফ্যাশন শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে। প্রতি বছর প্রতিষ্ঠানটি  ইয়ং ফ্যাশন ডিজাইনার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। বিজয়ীকে  এলভিএইচএমে এক বছরের জন্য ইন্টার্নশিপ করার সুবর্ণ সুযোগ দেয়া হয়।

আমানসিও অর্তেগা

Image Source: Elespanol.com

মোট সম্পত্তি- $৭০ বিলিয়ন

অর্তেগা নাম সবাই না জানলেও আমরা অনেকেই তার ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘জারা’ সম্পর্কে জানি। এই ব্র্যান্ডটি কাপড় ও আনুষঙ্গিক জিনিসের জন্য বিশ্ববিখ্যাত। অর্তেগা  ইউরোপের ২য় ও বিশ্বের ৬ষ্ঠ ধনীব্যক্তি। তিনি ১৯৭৫ সালে তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে প্রথম জারা ব্র্যান্ডের যাত্রা শুরু করেন। এখন তার জারা সহ অন্যান্য ব্র্যান্ডের ৬,০০০টি দোকান ও এবং ৯০,০০০ বেশি কর্মচারী আছে।

তিনি খুবই সাধারণ জীবনযাপন করতে অভ্যস্ত। ১৯৯৯ সালের আগে তার কোন ছবি প্রকাশিত হয়নি। তিনি এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। অর্তেগা ২০১২ সালে ২০ মিলিয়ন ডলার বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় দান করেন।

কার্লোস স্লিম হ্যালু

মোট সম্পত্তি-$৬৭.১ বিলিয়ন

হ্যালু বিশ্বের ৭ম ও মেক্সিকোর সবচেয়ে ধনীব্যক্তি এবং আমেরিকার সবথেকে বড় মোবাইল কোম্পানি আমেরিকা মভিল, টেলমক্স এবং গ্রুপ কারসো সিইও। তার কোম্পানিগুলো শিল্প থেকে শুরু করে শিক্ষা, ক্রীড়া, স্বাস্থ্যসেবা, রিয়েলএস্টেট ইত্যাদি সহ আরও বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে বিস্তৃত। ম্যাক্সিকোর স্টক এক্সচেঞ্জের ৪০% হ্যালুর মালিকানাধীন। তার মোট সম্পত্তি মেক্সিকোর জে.ডি.পির ৬% সমান। অল্প বয়স থেকেই তিনি ব্যবসায়ী হবার স্বপ্ন দেখতেন। তাই তিনি নিজেকে সেভাবেই গড়ে তোলেন।

Image Source: BusinessInsider.com

তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। সেই সাথে হ্যালু হিসাব নিকাশ ও আর্থিক বিবরণী তৈরিতে পারদর্শী। তিনি তার গণিতের দক্ষতাকে ব্যবসায়িক সাফল্যের চাবিকাঠি মনে করেন। হ্যালু তার অফিসে কম্পিউটার ব্যবহার করতে পছন্দ করেন না। তিনি সব হিসাব নিজ হাতে নোটবুকে লিখে রাখেন। হ্যালু তার দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া ইত্যাদি খাতে সহায়তা প্রদান করে থাকেন।

সের্গেই ব্রিন

মোট সম্পত্তি-$৪৭.৫ বিলিয়ন

Image Source: Cnet.com

ব্রিন এমন একজন ব্যক্তিত্ব যার সম্পর্কে আমারা কম জানি। ২০১৮ সালের জরিপ অনুযায়ী তিনি বিশ্বের ১৩তম ধনীব্যক্তি। লেরি পেইজের(আলফাবেট.ইংকের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ) সাথে মিলে তিনি গুগল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

ব্রিন স্ট্যান্ডফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং এখানেই তার লেরি পেইজের সাথে প্রথম সাক্ষাত হয়। তারা দুইজন প্রথমে একটি গ্যারাজের মধ্যে গুগলের অফিস খুলেছিলেন।এখন আমরা সবাই গুগলের জনপ্রিয়তা সম্পর্কে জানি। এছাড়া ব্রিন গুগলের দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে বিকল্প শক্তি ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।

মা হুয়াতেং

মোট সম্পত্তি-$৪৫.৫ বিলিয়ন

মা হুয়াতেং বিনিয়োগ, গেমিং এবং বিনোদনের জন্য বিখ্যাত পৃথিবীর সবচেয়ে ইন্টারনেট কোম্পানি টেনসেন্টের  মালিক। এই কোম্পানিকে এশিয়ার সবথেকে বড় এবং মূল্যবান কোম্পানি বলে মনে করা হয়। টেনসেন্ট হোল্ডিং চীনের বৃহত্তম মোবাইল ইন্সট্যান্ট মেসেজিং এবং স্মার্টফোন সম্পর্কিত অন্যান্য সেবা যেমন, পেমেন্ট সিস্টেম, বিনোদন, অনলাইন বিজ্ঞাপন ইত্যাদি পরিচালনা করে থাকে।

Image Source: axios.com

মা হুয়াতেং এখন চীনের অন্যতম এবং বিশ্বের ১৪ তম ধনীব্যক্তি। তার সম্পত্তি ৯.৭% টেনসেন্টটেন্সেন্ট কোম্পানী থেকে প্রাপ্ত। এছাড়াও তিনি চীনের কয়েকটি রিয়েল এস্টেটের মালিক। সেই সাথে তিনি একজন শিল্প সংগ্রাহক।  তিনি জনসম্মুখে খুব কম উপস্থিত হন এবং লোকচক্ষুর আড়ালে জীবনযাপন করতে অভ্যস্ত। ২০১৮ সালের টাইমস ম্যাগাজিনে তাকে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের একজন বলে আখ্যায়িত করা হয়।

 

ফ্রান্সসোরাস বেটেনকোর্ট মেয়ার

Image Source: Nytimes.com

মোট সম্পত্তি –$ ৪২.২ বিলিয়ন

লরিয়ালের চেয়ারওম্যান মেয়ার এবং তার পরিবার লরিয়াল ৩৩% স্টকের বৃহত্তম অংশীদার। মেয়ারকে পৃথিবীর ধনী মহিলাদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি ব্যক্তিগত জীবনযাপনে অভ্যস্ত এবং পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় ব্যয় করতে পছন্দ করেন। তার প্রিয় শখগুলোর মধ্যে একটি হলো, প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা পিয়ানো বাজানো। সেইসাথে তিনি একজন শিক্ষাবিদ এবং ২ টি বইও রচনা করেছেন।

মুকেশ আম্বানি

Image Source: Time.com

মোট সম্পত্তি-$ ৪০.১ বিলিয়ন

রিলায়েন্স ইন্ডাস্টিজের চেয়ারম্যান,ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বৃহত্তম শেয়ার হোল্ডার মুকেশ এশিয়ার ১৮তম ও বিশ্বের ৭৮তম ধনীব্যক্তি। এছাড়াও তিনি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ারলীগের ক্রিকেট টিম ‘মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের’ মালিক। ভারতের সবচেয়ে বড় গ্যাস ও তেল কোম্পানি রিলায়েন্স ইন্ডাস্টিজের ৪৪.৭% তার মালিকানাধীন। মুকেশ আম্বানি সমাজসেবা করতে পছন্দ করেন। তিনি ইন্ডিয়ার অন্যতম সমাজ সেবকদের মধ্যে একজন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন গুরুগম্ভীর ব্যক্তি।

হুই কা ইয়ান

Image Source: Scmp.com

মোট সম্পত্তি –$ ৩০.৩ বিলিয়ন

হুই কা ইয়ান চীনের ইভারগ্রেড কোম্পানির চেয়ারম্যান বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার। এটি চীনের সবথেকে বড়, দ্রুত ও সফল রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন সংস্থা। হুই কা ইয়ান গ্রামে বড় হলেও সবসময় একজন সফল ব্যবসায়ী হবার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি চীনের ৩য় ধনীব্যক্তি। চীনের ২৪০ টি শহরে তাদের ৭০০ টি প্রকল্প রয়েছে।

জর্জ পাওলো লাম্যান

Image Source: thefamouse.com

মোট সম্পত্তি –$২৭.৪ বিলিয়ন

লাম্যান একজন দক্ষ বিনিয়োগকারী ও ব্রাজিলের বিনিয়োগকারী সংস্থা থ্রি জি ক্যাপিটালের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ব্রাজিলের অন্যতম ও বিশ্বের ২৯তম ধনীব্যক্তি। লাম্যান হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশুনা করেছেন। লাম্যান ব্যাক্তিগত জীবনযাপনে অভ্যস্ত। পরিচিতজনেরা তাকে ওয়ারেন বাফেট ও স্যাম ওয়াল্টনের সাথে তুলনা করে থাকেন।

সুসান ক্লাটেন

Image Source: wattonberich.com

মোট সম্পত্তি –$২৫ বিলিয়ন

সুসান জার্মানির শীর্ষ এবং বিশ্বের ৩৮তম ধনীব্যক্তি। তিনি জার্মানির বিখ্যাত শিল্পপতি এবং বিএমডাব্লিউ গাড়ির ব্যবসায়ী হার্বাটের মেয়ে। তিনি বিশ্বের সবথেকে বড় যানবাহন তৈরিকারক বিএমডাব্লিউ কোম্পানির ২১.১ শতাংশের  মালিক। বাবা মারা যাবার পরে তিনি আল্টানা নামক একটি ফার্মাসিটিক্যাল ও রাসায়নিক কোম্পানির ৫০% মালিকানা পান।। এছাড়াও  তিনি আরো কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার।

 

 

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *