ভালো শিক্ষার্থী হতে গেলে যে ১০টি অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে

Source: www.fbm332.com

শিক্ষার্থী হিসেবে যারা প্রচণ্ড মেধাবী, তাদেরকে আমরা সবাই কমবেশি চিনি।  তারা হয়তো আপনার ক্লাসের স্টিফেন হকিং অথবা আইনস্টাইন হিসেবে পরিচিত। আপনি হয়তো তাদের মেধা দেখে অবাক হয়ে ভাবেন,  কেন যে আপনি তাদের মতো হতে পারছেন না!

এভাবে অনেক শিক্ষার্থী অবসাদে ভোগেন, যখন তারা দেখেন,  অন্য কেউ তাদের চেয়ে বেশি ভালো করছেন।  তারা তখন হীনমন্যতায় ভোগেন এবং নিজেকে  ছোট ভাবতে শুরু করেন। আপনি যদি এটা ভেবে থাকেন, ভালো শিক্ষার্থীরা তাদের শেখার  চমৎকার ক্ষমতাটি বংশপরম্পরায় অর্জন করেছেন, তবে আপনার এ ধারণা ভুল।

Source: www.mkbhambu.wordpress.com

আসলে তারা কোনো কিছু শেখার জন্য আপনার থেকে ভালো কৌশল অবলম্বন করে থাকেন। যার ফলে তারা  আপনার চেয়ে সহজে ও দ্রুত আয়ত্ত  করতে পারেন। আর এ কারণেই তারা যেকোনো পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করে থাকেন। চলুন জেনে নেই, যে অভ্যাসগুলো আপনাকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের কাতারে দাঁড় করাতে পারে।

১. একটি সুন্দর পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করুন

মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা সব সময় তাদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের কথা মাথায় রেখে একটি নিখুঁত পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করে থাকেন। আপনি যদি একটু দুর্বল প্রকৃতির শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন, তবে আপনার দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের সাথে মিল রেখে একটি পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করুন।

Source: .haci.saecsa.co

২. পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে বিরতি নিন

এই টিপসটি কি আপনাকে অবাক করছে? অনেক শিক্ষার্থী মনে করেন, তারা একটানা কয়েক ঘন্টা পড়াশোনা করলেই একসাথে অনেক তথ্য তাদের মস্তিষ্কে ধারণ করতে পারবেন। আসলে আপনি যদি পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে কিছুক্ষণের জন্য বিশ্রাম নেন, তবে আপনি স্বল্প সময়ে অধিক পরিমাণ তথ্য  আপনার মস্তিষ্কে ধারণ করতে পারবেন।

Source: www.youtube.com

আর বিরতির সময়টুকু বুদ্ধিমানের মতো কাজে লাগান। আপনার মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বৃদ্ধি করতে কিছুক্ষণ হাঁটুন। কেননা কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করলে আপনার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।

Source: lifehacker.com

৩. নিজের নোটস গুলো নিজেই তৈরি করুন

অনেক শিক্ষার্থী আছেন, যারা বন্ধুবান্ধবের নোট দেখে পড়াশোনা করে থাকেন। কিন্তু আপনি যদি তাদের মত হন, তবে আজই এই অভ্যাস বদলে ফেলুন। কেননা অন্যের তৈরি নোটস অনুসরণ করে আপনি নিজে থেকে কিছুই শিখতে পারবেন না। যখন আপনি আপনার নোটগুলো নিজে নিজেই তৈরি করবেন, তখন আপনি সে বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে পারবেন।

Source: www.whitelinespaper.com

তাছাড়া  যে বিষয়ের উপর আপনি নোট তৈরি করবেন, সে বিষয়টি অতি সহজেই মনে রাখতে পারবেন। খেয়াল করে দেখবেন, ভালো ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের নোটস গুলো নিজেরাই তৈরি করে থাকে। তাই আজ থেকে এই অভ্যাসটি গড়ে তুলুন।

৪. পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমান

এখানে ঘুম কেন গুরুত্বপূর্ণ? এর উত্তর হচ্ছে, যখন আপনি সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকবেন, তখন আপনার মস্তিষ্ক  আপনার অগোচরেই সারাদিনের অর্জিত তথ্য আত্মস্থ করতে থাকবে। আর আপনার ঘুম যদি ভালো হয়, তাহলে আপনি অবসাদগ্রস্ত হবেন না এবং ভালোভাবে অধ্যয়ন করতে পারবেন।

Source: www.edition.cnn.com

কিন্তু আপনার ঘুম যদি ভালো না হয়, তাহলে পরদিন রাজ্যের ক্লান্তি আপনার উপর ভর করতে পারে। এর ফলে আপনি কোনোকিছুই ভালোভাবে শিখতে পারবেন না। তাই নিয়ম করে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

৫. প্রশ্ন করুন

আপনি কি কখনো লক্ষ্য করেছেন, মেধাবী শিক্ষার্থীরা লেকচার চলাকালীন সময়ে এবং লেকচার শেষে কি করে?  লক্ষ্য করলে দেখবেন , তারা লেকচার চলাকালীন সময়ে কোন বিষয় না বুঝতে পারলে সেটি নোট করে রাখছেন এবং লেকচার শেষে শিক্ষকের সাথে সেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন।

Source: www.modoyoga.com

তাই আপনি যদি তাদের মতো হতে চান, তবে আপনাকে প্রশ্ন করা শিখতে হবে। কারণ প্রশ্ন না করলে আপনি কিছু জানতে পারবেন না।

৬. নিজেই নিজেকে যাচাই করুন

Source: www.shutterstock.com

ভালো শিক্ষার্থীরা তাদের মস্তিষ্কে  বিভিন্ন তথ্য শুধু জমা করেই রাখেন না। কতটুকু শিখলেন, তার উপর ভিত্তি করে  প্রতিদিন নিজেদের যাচাই করে থাকেন। তাই আপনি যদি ভালো শিক্ষার্থী হতে চান, এই কাজটি আপনাকেও করতে হবে।

আপনি যখন নিজেকে যাচাই করবেন, তখন কোনো ভুলে যাওয়া তথ্যও পরবর্তীতে আরো ভালোভাবে শিখে মনে রাখতে পারবেন। কোনো বিষয় আয়ত্ত করার পর রিভাইজ না দিলে ভুলে যাওয়াই স্বাভাবিক। তাই নিজেকে যাচাই করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৭. ভুল থেকে শেখার মাত্রা বাড়ান

আপনি যদি ভালো শিক্ষার্থী হতে চান, তবে এই অভ্যাসটি  গড়ে তোলা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। বিভিন্ন বিষয়ে  আগে  প্রাপ্ত নম্বরগুলোর উপর একবার চোখ বুলান এবং ভাবুন, কোথায় কী ভুল হয়েছিল।

মেধাবী শিক্ষার্থীরা সবসময় নিজেদের আগের  ভুলগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকেন। তাই আপনিও এই অভ্যাসটি গড়ে তুলতে পারলে আগের তুলনায় নিশ্চয় ভালো করতে পারবেন।

৮. ক্লাসে মনোযোগী হন

ক্লাসে যথাসম্ভব মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করুন। মনোযোগ দিয়ে শিক্ষকের লেকচার শুনুন। আপনি যদি ক্লাসে মনোযোগী না হন, তবে শিক্ষকের লেকচারের কিছুই বুঝতে পারবেন না। এতে করে পরবর্তীতে আপনি যখন একা একা পড়তে যাবেন, তখন সে বিষয়গুলো আপনার কাছে দুর্বোধ্য মনে হবে।

Source: www.jooinn.com

তাই শিক্ষকের লেকচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো নোট করে রাখুন। কোথাও বুঝতে সমস্যা হলে শিক্ষককে প্রশ্ন করুন। আপনি যদি প্রতিটি ক্লাসে মনোযোগী থাকেন, তবে এর সুফল পরীক্ষার সময় নিশ্চয় বুঝতে পারবেন।

৯. অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করুন

শিক্ষা শুধুমাত্র অর্জন করা এবং পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আপনার অর্জিত জ্ঞান তখনই কাজে আসবে, যখন আপনি তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগের মাধ্যমে কোন সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবেন।

দেশসেরা শিক্ষার্থীদের দিকে নজর দিলে দেখতে পাবেন, তারা অনেকেই তাদের অর্জিত কেতাবি জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে অনেক সমস্যা সমাধান করে থাকেন। তাই আপনিও আপনার অর্জিত জ্ঞানকে সবসময় বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন।

১০. মেধাবী শিক্ষার্থীদের অনুসরণ করুন

আপনি যদি নিজেকে তাদের পর্যায়ে দেখতে চান, তবে তাদেরকে অনুসরণ করুন। আপনি চাইলে তাদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড, পাঠ পরিকল্পনা, অধ্যয়ন কৌশল ইত্যাদি বিষয়গুলো অনুসরণ করতে পারেন এবং সেগুলো থেকে শিক্ষাগ্রহণ করতে পারেন। তাদের সাথে যোগাযোগ তৈরি করুন এবং পড়াশোনার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করুন।

Source: .all-free-download.com

উপরের বিষয়গুলো অনুসরণ করে আপনি দ্রুত একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হয়ে উঠতে পারেন। তবে আপনাকে অবশ্যই প্রচুর পরিমাণ পরিশ্রম করতে হবে। আপনার পরিশ্রম এবং জানার ইচ্ছাই আপনাকে একদিন মেধাবীদের কাতারে দাঁড় করাতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *