প্রত্যেক স্থাপত্যবিদ্যার শিক্ষার্থীর জন্য যে ১০টি বিষয় জানা অত্যন্ত জরুরি

Source: www.creativeswall.com

প্রত্যেক স্থাপত্যবিদ্যার শিক্ষার্থীই একজন নামকরা স্থপতি হতে চান। তবে কিছু কিছু শিক্ষার্থী তাদের সামান্য কিছু ভুলের কারণে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন না। আপনি যদি স্থাপত্যবিদ্যার শিক্ষার্থী হন এবং একজন সফল স্থপতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে। এই লেখায় স্থাপত্যবিদ্যা সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করা হলো। চলুন জেনে নিই, বিষয়গুলো কী কী।

১. ভালো মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করুন

যদি আপনি একজন বড় মাপের স্থপতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, তবে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করা আপনার জন্য আবশ্যক। অন্যান্য পেশাগত ক্ষেত্রের মত স্থাপত্যও এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে ভালো কিছু হতে গেলে উচ্চতর শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতা থাকা অপরিহার্য। আর উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করতে হলে আপনাকে অবশ্যই কোনো না কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে।

Source:www.fromgentogen.us

তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পূর্বে সেই বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। বিশেষ করে সেখানে পড়াশোনার মান কেমন, সেই বিষয়ে ভালোভাবে খোঁজ নিন। কেননা আপনি শুধুমাত্র একটি ডিগ্রি অর্জনের জন্য সেখানে ভর্তি হবেন না। ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি আপনাকে স্থাপত্যবিদ্যা সংক্রান্ত অনেক বিষয়ও ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে। তাই একটি  মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করুন।

২. কঠোর অনুশীলনের জন্য প্রস্তুত হন

আপনি যদি একটি ভালো মানের চাকরি পেতে চান, তবে ছাত্রাবস্থায় পড়াশোনায় মনোযোগী হন। ছাত্রজীবনে আপনি যত বেশি জ্ঞান অর্জন করবেন, কর্মজীবনে আপনি তত বেশি সফলতা পাবেন। কখনো সময় অপচয় করবেন না। দিনের অধিকাংশ সময় পড়াশোনার পেছনে ব্যয় করুন। অবসর সময়ে কিছু না কিছু শেখার চেষ্টা করুন।

Source:genheration.com

যে বিষয়গুলোতে আপনার ঘাটতি রয়েছে, সেই বিষয়গুলোতে উন্নতি করার চেষ্টা করুন। স্থাপত্যবিদ্যার বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে জানুন। একমাত্র কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমেই আপনি একজন মানসম্পন্ন স্থপতি হতে পারেন।

৩. গণিতে দক্ষ হওয়ার চেষ্টা করুন

কিছু কিছু স্থপতি এই ধারণার সাথে ভিন্নমত পোষণ করেন। তবে একজন স্থপতির জন্য গণিতে দক্ষ হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। কেননা স্থাপত্যবিদ্যায় মাপজোক করার সময় বিভিন্ন ধরনের সমীকরণ ব্যবহার করা হয়।

Source:education.seattlepi.com

আপনি যদি দক্ষ গণিতজ্ঞ হন, তবে স্থাপত্য সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিল হিসানিকাশ অতি সহজেই সমাধান করতে পারবেন। তাছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্যবিদ্যা বিষয়ে ভর্তি হতে গেলে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকে  গণিতে প্রাপ্ত নম্বর দেখা হয়ে থাকে। তাই আপনি যদি স্থাপত্যবিদ্যার শিক্ষার্থী হতে চান, তবে ভালোভাবে গণিত শিখুন।

৪. সমস্যা সমাধানে সৃজনশীল হোন

আপনার টমাস আলভা এডিসনের মত দক্ষ গণিতজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। পিকাসোর মত চমৎকার অঙ্কন দক্ষতা থাকাটাও আপনার জন্য জরুরি নয়। তবে স্থপতি হতে চাইলে আপনার মাঝে অবশ্যই সমস্যা সমাধানের  সৃজনশীল ক্ষমতা থাকাটা জরুরি।

Source:upliftconnect.com

একজন স্থপতির কাজ হচ্ছে, ভবন নির্মাণের জন্য সুন্দর সুন্দর নকশা তৈরি করা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে নকশা তৈরি করার সময় একজন স্থপতিকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তবে আপনি যদি নিজের সৃজনী শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে যেকোনো সমস্যা সহজেই উতরে যেতে পারবেন।

৫. অতীতের বিখ্যাত স্থপতিদের সম্পর্কে ভালো করে জানুন

অতীতের বিখ্যাত স্থপতিদের জীবনী থেকে শিক্ষাগ্রহণ করার চেষ্টা করুন। আপনি যদি তাদের লেখা বিভিন্ন বই পড়েন, তবে স্থাপত্যবিদ্যার অনেক বিষয় বিস্তারিতভাবে শিখতে পারবেন। কিভাবে তারা দৃষ্টিনন্দন সব স্থাপনা তৈরি করেছিলেন, সেই প্রক্রিয়া সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা পাবেন। এই ধারণাগুলো আপনি কর্মক্ষেত্রেও কাজে লাগাতে পারবেন।

Source;mentalfloss.com

আপনি তাদের তৈরি বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপত্যকর্মগুলো থেকেও শিক্ষাগ্রহণ করতে পারেন। অতীতের জনপ্রিয় স্থপতিদের অনুসরণ করলে আপনিও সেরা স্থপতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। তাই অতীতের বিখ্যাত স্থপতিদের ভালভাবে জানুন এবং তাদের কাজ থেকে অনুপ্রেরণা লাভ করুন।

৬. সুসজ্জিত শহরগুলো ভ্রমণ করুন

আপনি যদি স্থাপত্যবিদ্যার শিক্ষার্থী হন এবং আপনার যদি ভ্রমণ করার সামর্থ্য থাকে, তবে জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য  সুসজ্জিত শহরগুলো ভ্রমণ করার চেষ্টা করুন। বিভিন্ন শহর ভ্রমণ করার মাধ্যমে আপনি অনেক জটিল নকশায় গড়া চমৎকার স্থাপনাগুলোকে খুব কাছে থেকে দেখতে পারবেন। এতে করে আপনার মধ্যে জটিল জটিল নকশা তৈরির ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

Source: www.airpano.com

তাছাড়া বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোতে ভ্রমণ করলে আপনার মাঝে বিখ্যাত স্থপতি হওয়ার আকাঙ্ক্ষাও বাড়বে। পাঠ্যপুস্তক থেকে আপনি যতটুকু শিখবেন, ভ্রমণ করার মাধ্যমে তার চেয়েও আরো বিশদভাবে শিখতে পারবেন।

৭. অনেকটা লম্বা পথ পাড়ি দিতে প্রস্তুত হন

একটি ভালো মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর পড়াশোনায় পুরোপুরি মনোনিবেশ করুন। কেননা বর্তমান যুগ হচ্ছে প্রতিযোগিতার যুগ। মনে রাখবেন, আপনাকে অনেকটা লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে। কারণ আপনার মতো অনেক শিক্ষার্থীই বড় মাপের স্থপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখে থাকেন এবং তাদের স্বপ্নপূরণ করতেও সর্বদা পরিশ্রম করেন।

Source:pixabay.com

তাই এই প্রতিযোগিতায়  পিছিয়ে পড়লে চলবে না। হাল ছেড়ে না দিয়ে  মনোযোগ সহকারে পড়াশোনা করুন। কঠোর পরিশ্রমই আপনাকে এই প্রতিযোগিতায় জয়ী করতে পারে।

৮.  আপনি ধনী নাও হতে পারেন

কিছু ধনী এবং জনপ্রিয় স্থপতিকে দেখে হয়তো আপনার স্বপ্ন জাগতে পারে যে, আপনিও তাদের মতো ধনী হবেন। স্বপ্ন দেখাটা অপরাধ নয়, কিন্তু আপনি তাদের মতো অনেক অর্থ উপার্জন নাও করতে পারেন। এই বিষয়টি সহজভাবে মেনে নেওয়ার ক্ষমতা আপনার থাকতে হবে।

Source: www.istockphoto.com

তাদের মতো উপার্জন না করতে পারায় আপনি যদি মনোবল হারিয়ে ফেলেন, তবে কখনোই সফল হতে পারবেন না। তাই মনোবল না হারিয়ে, আপনার স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে কঠোর পরিশ্রম করে যান। হয়তো আপনি একদিন তাদের চেয়েও বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

৯. প্রথমাবস্থায় চাকরির প্রতি বিরক্তিভাব আসতে পারে

চাকরির প্রথমাবস্থায় চাকরির প্রতি আপনার বিরক্তিভাব আসতে পারে। কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন নিয়মকানুন, কাজের চাপ, বসের বকাবকি ইত্যাদি আপনাকে শারীরিক এবং মানসিক উভয় দিক দিয়েই পীড়া দিতে পারে।

Source: www.oxford-review.com

তাই একজন স্থপতি হিসেবে চাকরিতে যোগদানের পূর্বে নিজেকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত করে নিন। কাজের প্রতি দায়িত্ববান হন এবং কাজকে বিরক্তিকর না ভেবে কাজের মাঝে আনন্দ  খুঁজে নিতে শিখুন।

১০.  ইন্টার্নশিপ শুরু করুন

ছাত্রাবস্থায় যেকোনো ইন্টার্নশিপ শুরু করাকে সাফল্যের সিঁড়ি হিসেবে মনে করা হয়। প্রতিযোগিতামূলক  ক্ষেত্রে  নিজেকে বেশি করে তুলে ধরতে হবে এবং সুনিপুণভাবে কাজ করতে হবে। আপনি যদি কোনো একটি ইন্টার্নশিপ শুরু করেন, তবে কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাবেন এবং হাতেকলমে শিখতে পারবেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *