জীবন ও ব্যবসায় উদ্যোগ সম্পর্কে ১২ টি কঠিন কিন্তু বাস্তব সত্য (পর্ব-২)

জীবন ও ব্যবসায়-উদ্যোগ সম্পর্কে জেনে নিন কিছু বাস্তব সত্য। জীবনের কঠিন সময়ে এগুলোই আপনাকে প্রেরণা জুগিয়ে এগিয়ে চলার সাহস দিতে পারে। আগের পর্ব পড়তে নিচের লিংকে যান।

জীবন ও ব্যবসায়-উদ্যোগ সম্পর্কে ১২ টি কঠিন কিন্তু বাস্তব সত্য (পর্ব-১) 

৬. খ্যাতি সবাইকে আকর্ষণ করে

যখন আপনি প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো কাজ কিংবা কোনো ব্যবসায়-উদ্যোগ শুরু করতে যাচ্ছেন, তখনই আপনি সবার ভরসা ও উৎসাহ পাবেন এমনটা ভাবা বোকামি। আপনার কাছে যদি একটি সুপরিকল্পিত বিজনেস- মডেল থেকে থাকে এবং আপনি যদি লক্ষ্যে অটল থাকেন তবে অন্যের কথায় কান না দিয়ে আপনার ব্যবসার দিকে মনোযোগ দিন।

ছবিসূত্রঃ Insights for Professionals

আপনার পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি মার্কেটে আপনার পণ্য বা সুবিধা বিস্তার লাভ করে এবং তাতে সাফল্যের সম্ভাবনা থাকে তবে আপনাকে একসময় যারা নিরুৎসাহিত করছে, তারাই আপনার ব্যবসার অংশীদার হতে চাইবে। তাই শুরুতে পরিকল্পনা অনুযায়ী বিনিয়োগকারী না পেলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সাফল্যের গন্ধ পেলে বিনিয়োগকারীর অভাব হবে না। তবে একথাও সত্য যে নিজের লক্ষ্যে অটল থাকলেই যে আপনি সফল হবেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। শক্ত মনোবলের মতো সঠিক, দূরদর্শী এবং বুদ্ধিদীপ্ত পরিকল্পনাও জরুরি।

৭. বিনিয়োগকারীর পছন্দ সম্পর্কেও জানুন

আপনি যদি ব্যবসায় নতুন হন, তবে আপনার উদ্যোগ যত ভালোই হোক না কেন অধিকাংশ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে না শোনার জন্য প্রস্তুত থাকুন। সত্য এটাই যে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের ব্যাপারে হ্যাঁ এর চেয়ে না-ই বেশি বলে থাকেন। কারণ প্রত্যেক বিনিয়োগকারী সবসময় লাভজনক ও সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা খুঁজে থাকেন, তারপরও কোনো বিনিয়োগকারীর পক্ষেই মাত্র ২০-৩০ মিনিটের আলোচনায় উদ্যোক্তার মেধা, মনোবল এবং ব্যবসার মডেল সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা লাভ সম্ভব নয়।

ছবিসূত্রঃ komal.fr

অনেক বিনিয়োগকারী ভালো ভালো মার্কেটে বিনিয়োগের সুযোগ পেয়েও তা হারিয়েছেন এ কারণেই। তাই আপনার উদ্যোগ আপনার কাছে যত সম্ভাবনাময়ই হোক না কেন, আপনি বিনিয়োগকারীদের কতটা আকর্ষণ করতে পারবেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

তবে এক্ষেত্রে একটি টিপস হলো- আপনার পণ্য বা সুবিধার মতো খাতে এর আগে যারা বিনিয়োগ করেছেন কিংবা যারা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হতে পারেন এরকম বিনিয়োগকারীদের একটি লিস্ট করুন এবং প্রত্যেককে নিয়ে আলাদা ভাবে জানার চেষ্টা করুন। এর মাধ্যমে ধারণা করার চেষ্টা করুন কোন বিনিয়োগকারীর আপনার উদ্যোগে বিনিয়োগ করার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তার সামনে কিভাবে নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে বক্তব্য পেশ করলে তা তাকে আকৃষ্ট করবে।

৮. প্রতিটি বাধাকে চ্যালেঞ্জরূপে গ্রহণ করুন

ব্যবসার শুরুতে আপনি নিজের জ্ঞান, ধারণা ইত্যাদির কারণেই সামনে এগোতে অনেক বাধার সম্মুখীন হবেন। শুরুতেই সবাই সব কিছু জানতে পারে না এ কথাটি মাথায় রাখবেন। মার্ক জুকারবার্গ এতো বড় সোশ্যাল মিডিয়া কিভাবে পরিচালনা করবেন তা একসময় জানতেন না। জেফ বেজোস আমাজন শুরুর আগে ক্রয় বিক্রয় বা ই-কমার্স সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতেন না।

ছবিসূত্রঃ Dynamic Business

তাই নিজের কম জানা বা অনভিজ্ঞতার কারণে পিছিয়ে থাকা বা দুশ্চিন্তা করার কারণ নেই। জানার চেষ্টা করতে থাকুন, নিজেকে এগিয়ে নিতে থাকুন। কাজে কখনও সফলতা কখনও ব্যর্থতার মাধ্যমেই মানুষ অভিজ্ঞতা অর্জন করে। যদিও বিনিয়োগকারীরা বেশিরভাগ সময় অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনাময় মার্কেট-প্রোডাক্টকে বেশি গুরুত্ব দেয়, কিন্তু এতে হতাশ হবার কেন নেই।

৯.. কখনো কখনো কঠিন সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত নিয়ে ফেলাই ভালো

জীবন বা ব্যবসা যে কোনো ক্ষেত্রে যে কোনো মুহূর্তে আপনাকে কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার প্রয়োজন হতে পারে। কাঠিন্যকে সহজ করার আশায় অনেকে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেন যা অনেক সময় কাঠিন্যকে বাড়িয়ে দেয় এবং সময় কখনও সুযোগ সবই নষ্ট করে। তাই দূরদর্শীতা ও বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে কঠিন পদক্ষেপগুলো দ্রুত কার্যকর করুন।

১০. নিজের সময়কে গুরুত্ব দিন

ছবিসূত্রঃ Psycho Youth Psycho Youth

আপনি যদি আপনার সময়ের মূল্যায়ন করতে শেখেন, তবে কেউ আপনার সময়ের ক্ষতিপূরণ করতে আসবে না। অনেক নতুন ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগকারীকে আকৃষ্ট করতে এবং তাদের পেছনে ছুটতে গিয়ে এতো সময় দিয়ে ফেলেন যে শেষে সুযোগ ও বিনিয়োগ দুইই হারাতে হয়। মনে রাখবেন, আপনার ব্যবসার মডেল, পণ্য ও পরিকল্পনা যদি তাদের পছন্দ হয় তবে তারা নিজের থেকেই আপনাকে সময় বের করে দিবে, তাদের পিছনে পরে থাকার প্রয়োজন নেই।

১১. পণ্যের মান ও ব্যবসার সুনামের সাথে জড়িত কোনো বিষয়ে আপোষ নয়

আপনার পণ্য, পণ্যের মান, পরিকল্পনা, লোকবল ইত্যাদি কোম্পানির খ্যাতির সাথে জড়িত বিষয়গুলোতে নেতিবাচক কোনো ব্যাপার চোখে পরে এমন কিছুর অবকাশ রাখবেন না। মনে রাখবেন, আপনার কোম্পানিতে বিনিয়োগকারী কিংবা পণ্যের ক্রেতা বা সুবিধা ব্যবহারকারী যে কোনো ব্যক্তি আপনার কোম্পানি সম্পর্কে গভীরভাবে জানার চেষ্টা করতে পারে।

একবার কোনো নেতিবাচক ব্যাপার বেরিয়ে গেলে কোম্পানির সুনাম ধরে রাখতে ও পুনরায় বিস্তার লাভ করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হতে পারে। তাই সত্যি যদি আপনার কোম্পানি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকে থাকে, তবে প্রথম থেকেই এই বিষয়টি মাথায় রাখবেন।

১২. ইতিবাচক হোন

ছবিসূত্রঃ Illumine Training

ব্যবসায়-উদ্যোগে আপনি এক হতে পারেন, আপনার আশেপাশের নেতিবাচক মানুষ সবসময় আপনাকে ঝুঁকিমুক্ত সাধারণ জীবন-যাপন করতে উৎসাহ দিতে পারে। কিন্তু আপনি নিজেকে কিভাবে দেখতে চান সেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি যদি আপনার মূল্যবোধ, সততা, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ঠিক রেখে বুদ্ধিমত্তার সাথে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যান তবে একদিন সাফল্য আসবেই।

Featured image: Steemit

One Comment

Leave a Reply

One Ping

  1. Pingback:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *