আপনি স্থপতি হলে যে সাতটি কারণে আপনার চাকরির আবেদনপত্র বাতিল হতে পারে

source:articles.bplans.com

আমরা সকলেই জানি বর্তমান যুগ হচ্ছে প্রযুক্তির যুগ। এই প্রযুক্তির যুগে বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার চাহিদা হলো ইঞ্জিনিয়ারিং দিকগুলোতে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো স্থাপত্যশিল্প। আমাদের সকলের স্বপ্ন থাকে যে লেখাপড়া শেষ করে একটি ভাল প্রতিষ্ঠানে কাজ করার। কিন্তু সবসময় সে সুযোগ হয়ে ওঠে না। বর্তমানে অনেকাংশেই আমাদের করা চাকরির আবেদনগুলো কোনো না কোনো কারণে বাতিল করে দেয়া হয়। কি কি কারণে একজন আর্কিটেক্ট বা স্থপতির চাকরির আবেদনপত্র বাতিল করা হয় ও তার থেকে পরিত্রাণের উপায়গুলো আলোচনা করা হলো।

১. সংস্থাটি লোক ভাড়া করে না

সবচেয়ে সুস্পষ্ট কারণ থেকে শুরু করছি। আপনি যে আর্কিটেকচার সংস্থাতে আবেদন করেছেন সেই সংস্থাটি যদি লোক ভাড়া করার মত অবস্থায় না থাকে, তবে আপনি যতই ভালো  হন না কেন সেখান থেকে কোনো সাড়া পাবেন না। যে সংস্থাগুলোর কোনো লোকের প্রয়োজন নেই, আপনি সেখানে চাকরির আবেদন করে শুধু শুধু নিজের সময় নষ্ট ব্যতীত অন্য কিছুই করছেন না। এজন্য আপনার উচিত এমন কোনো সংস্থায় আবেদন করা যাদের লোকের প্রয়োজন আছে।

একটি আর্কিটেকচার ফার্ম; source:paulraffstudio.com

অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ভুল দেয়া হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে আপনাকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ভালভাবে যাচাই করে নিতে হবে। সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে গিয়ে ক্যারিয়ার পেজ যাচাই করা। কেননা এই পেজগুলোতে উক্ত প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের তথ্য দেওয়া থাকে। এই কাজটি করার মাধ্যমে আপনি অনেকাংশে উপকৃত হতে পারবেন। এছাড়া আপনার উচিত কোনো প্রতিষ্ঠানে আবেদন করার আগে এটা নিশ্চিত হয়ে নেয়া যে সত্যিই কি তাদের কোনো লোকের প্রয়োজন আছে কিনা। যদি থাকে তবেই আপনার সেখানে আবেদন করা উচিত।

২. আপনার আবেদন দুর্বল

এই কারণেও আপনার আবেদন বাতিল হতে পারে। আপনার আবেদন যদি পরিপূর্ণ না হয়ে থাকে তাহলে আপনাকে বাতিল হিসেবে গণ্য করা হবে। আবেদনের ক্ষেত্রে আপনার জীবন বৃত্তান্ত, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অন্যান্য কাগজপত্রাদি সঠিকভাবে পাঠাতে হবে। এদের মধ্যে কোনো একটি বাদ পড়লে আপনার আবেদনটি গ্রহণযোগ্য হবে না।

একটি পরিপূর্ণ আবেদনপত্রের নমুনা; Source: vectorstock.com

এছাড়া উচ্চপদস্থ কারো সুপারিশ থাকলে সেই আবেদনটি অনেক সময় বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেতে পারে।

৩. পরিপাটি জীবনবৃত্তান্ত

জীবনবৃত্তান্ত আবেদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আবেদনের ক্ষেত্রে প্রথমেই আমাদের জীবনবৃত্তান্ত চাওয়া হয়। সেক্ষেত্রে জীবনবৃত্তান্তটি অবশ্যই পরিপাটি হতে হবে। যেটি হবে এক কথায় নির্ভুল, স্মার্ট এবং ঝকঝকে। যা দেখে সহজেই একজন আর্কিটেকচারকে পছন্দ করে নেয়া যায় এবং তার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

৪. অভিজ্ঞতা অস্পষ্ট বা অপ্রাসঙ্গিক

আবেদন বা কাজের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা মূল ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে অভিজ্ঞতা ছাড়া কোথাও মূল্যায়ন করা হয় না। আপনার অভিজ্ঞতা যদি অস্পষ্ট হয় তাহলে আবেদন বাতিল করা হবে। এমনকি অভিজ্ঞতার সঠিকভাবে বিবরণ না দিলে সেটি গ্রহণযোগ্য হবে না। এক্ষেত্রে একজন স্থপতি হিসেবে  আপনার কী কী অভিজ্ঞতা রয়েছে সেগুলো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করাও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

কাজের অভিজ্ঞতাকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন; source:empoweringfutures.org

আপনার কাজের বয়স, কাজের ধারা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন। একাধিক অভিজ্ঞতা থাকলে সেগুলো লাইন বাই লাইন বুলেটিন দ্বারা সুন্দর এবং বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করুন। অপ্রাসঙ্গিক কোনো অভিজ্ঞতা উল্লেখ করবেন না। এতে করে আপনার আবেদনপত্রটির সৌন্দর্য বজায় থাকবে।

৫. আপনার উল্লেখিত অভিজ্ঞতা যদি প্রতিষ্ঠানের কোনো কাজে না আসে

অনেক ক্ষেত্রে এমন হয় যে আবেদনপত্রে আপনি যে বিষয়ে অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন সেই বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখে না। যদি এমনটি হয় তবে আপনার আবেদনকে একটু হালকাভাবেই গ্রহণ করা হয়ে থাকে এবং আপনি সেই প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাবেন না।

আপনার আবেদনটি কোনো ম্যানেজারের হাতে পৌঁছানোর পর অবশ্যই তিনি আপনার অভিজ্ঞতার বিবরণ দেখে আপনি কীভাবে  প্রতিষ্ঠানের উন্নতিতে অবদান রাখতে পারেন সে বিষয়ে ভাববেন। এক্ষেত্রে আপনার অভিজ্ঞতা যদি এমন হয় যে সেটি কোনো উপকারে আসবে না তবে আপনার আবেদনটিও বাতিলের ঘরে জমা হবে।

অপ্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা উল্লেখ করার কারণে আবেদনপত্র বাতিল হতে পারে; source:mentalfloss.com

তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটি এটিও লক্ষ্য করবে যে আপনার শিক্ষা, কর্ম অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং যোগ্যতাগুলো শুধুমাত্র তাদের চাওয়াগুলোকেই পূরণ করছে নাকি সেইসাথে কোম্পানির সংস্কৃতির সাথেও বিষয়গুলো মানানসই।

উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রকল্প থেকে এসে তিন ব্যক্তিবিশিষ্ট একটি আবাসিক অফিসে আবেদন করেন তবে এক্ষেত্রে আপনাকে এই বিষয়টি পরিষ্কার করতে হবে যে আপনি কেন আবেদন করছেন এবং আপনার পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা কীভাবে আপনার নতুন পদের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।এছাড়া প্রায় প্রতিটি স্থাপত্য সাক্ষাৎকারের প্রথম প্রশ্ন হয় “কেন আপনি এখানে কাজ করতে চান?” নিশ্চিত করুন যে আপনার আবেদন দস্তাবেজ এই প্রশ্নের উত্তর বহন করে।

৬. বাসস্থান দূরে হলে

স্পষ্টতই যদি আপনি একটি ভিন্ন শহর, রাষ্ট্র বা দেশ থেকে আবেদন করেন সেক্ষেত্রে আপনাকে অনেক বাধা অতিক্রম করে গন্তব্যে পৌছাতে হবে। এটি আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের জন্য বিশেষভাবে সত্য।

এজন্য আপনি যে শহরে কাজ করতে চাইছেন সেই শহরগুলোতে আপনার ছুটির দিনগুলোর কিছু অংশ অতিবাহিত করুন। এতে করে আপনি যে কোম্পানিগুলোতে আবেদন করেছেন সেই কোম্পানিগুলো জানতে পারবে যে আপনি তাদের শহরেই আছেন এবং তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে আপনি আগ্রহী। অফিসগুলো সাধারণত দূরের কোনো আবেদনকারীকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকে না। তারা এটাও চায় না যে, আপনি প্রতিদিন দীর্ঘযাত্রা করে কর্মক্ষেত্রে যোগদান করুন।

বাসস্থান দূরে হলে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়; source:universitycircle.org

তাই আপনি যদি কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানের চেয়ে দূরবর্তী কোনো স্থানে অবস্থান করে থাকেন তবে আজই দুরত্ব ঘুচিয়ে ফেলুন। আপনি যদি অন্য কোনো দেশের হয়ে থাকেন তবে অতিসত্বর আপনার ভিসা নিশ্চিত করুন।

৭. আপনার ব্যাকরণ দুর্বল

আবেদনপত্রে ব্যাকরণের দিকে মনোযোগী হওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দুর্বল ব্যাকরণ একজন প্রার্থী সম্পর্কে অনেক নেতিবাচক ধারণার জন্ম দিতে যথেষ্ট।

স্থাপত্য একটি বিস্তারিত বিষয়ভিত্তিক পেশা। তাই আপনার সারসংক্ষেপ যেন স্পষ্টভাবে সকল তথ্য বহন করে। এটা আপনার ক্ষমতার প্রথম পরীক্ষা। আপনি যদি আপনার নিজের অভিজ্ঞতার আলাপ করতে না পারেন তাহলে আপনি নকশা প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করবেন কীভাবে?

সঠিক ব্যাকরণ ব্যবহার করুন; source:myamcat.com

এখানে শুধু বানান এবং বাক্য গঠন সম্পর্কে কথা বলা হচ্ছেনা। স্থাপত্য বিষয়ক পরিভাষার সঠিক ব্যবহারের কথাও বলা হচ্ছে যা আপনার জন্য অপরিহার্য। আপনার লিখিত নথিগুলি যত্ন সহকারে সাজান। শুধুমাত্র বানানেরর দিকে নজর দেবেন না। যতটা সম্ভব আপনার সমস্ত কাজকে যাচাই করে নিন। ভালো হয় যদি আর্কিটেকচার পেশায় নিয়োজিত কোনো নেটিভ স্পিকারকে দিয়ে আপনার কাজগুলো পরীক্ষা করান।ডিজাইন ফেজ, বিবরণ বা অন্যান্য স্থাপত্য সংক্রান্ত বর্ণনার ক্ষেত্রে ছোট ভুলগুলোর দিকে বিশেষভাবে নজর দিন।

একটি চাকরির ইন্টারভিউ; source:commons.bcit.ca

মনে রাখবেন শুধু অন্ধের মতো কোথাও আবেদন করবেন না। আবেদন করার আগে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালভাবে জানুন, বুঝুন। তারপর উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করে আবেদন করুন। এই বিষয়গুলো মেনে কোনো স্থপতি যদি চাকরির জন্য আবেদন করেন তবে অবশ্যই সফল হতে পারবেন। তাহলে আশা করা যায়, আপনি যদি স্থপতি হয়ে থাকেন, এখন থেকে  আপনি বিষয়গুলো মেনে আবেদন করেন। তাই দেরি না করে এখনই সাক্ষাৎকারের জন্য তৈরি হয়ে নিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *