সংকট ব্যবস্থাপনায় যে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া উচিত

Image Source: antonpr.com

নতুন ব্যবসা দাঁড় করাতে গেলে অনেকগুলো দিক যেমন, ঝুঁকি, ক্রেতাদের আকর্ষণ করার উপায় ইত্যাদি নিয়ে ভাবতে হয়। সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সংকট এবং সংকট পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে পরিকল্পনা করে রাখা। কারণ সংকট কখনো বলেকয়ে আসে না, তাই সবসময় যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

প্রায় প্রতিদিনের খবরের কাগজের হেডলাইনে নানা দুর্যোগের কথা লেখা থাকে। তা কখনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ,  আবার কখনো মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। প্রতিটি দুর্যোগই সবগুলো ব্যবসা, কোম্পানির উপর প্রভাব ফেলে। অনেক ঘটনা ও দুর্ঘটনা হতে পারে, যেগুলোর জন্য আপনাকে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে। তাই সংকট ব্যবস্থাপনার ৭টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ যা আপনার আগে থেকেই নেয়া উচিত, সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১. প্ল্যান করুন

প্ল্যান করুন; Image Source: wikihow.com

প্ল্যান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। আপনি যেই কাজই করতে চান না কেন্ন, তার আগে অবশ্যই প্ল্যান করতে হবে। তা না হলে আপনি সফল হবেন না। প্ল্যান করে কাজে এগুলে আপনি কখন, কোন কাজটি করতে চান তা পরিষ্কার থাকবে আপনার কাছে।

যেকোন সংকটের সময় আপনার প্ল্যানের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কোন ব্যক্তি বিশেষ (যেমন,নিজেকে) কিংবা গোষ্ঠীকে (কর্মচারী কিংবা সাধারণ জনগণ) বাঁচানো। কিন্তু আপনার মূল সহযোদ্ধা তথা বাকি কর্মচারীরা যাতে আপনার প্ল্যান সম্পর্কে অবগত থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

২. একজন মুখপাত্র নির্বাচন করুন

অনেক সময় দুর্যোগের দরুন আপনার সংগঠনের কিংবা সাধারণ জনগণের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তখন মিডিয়ার দৃষ্টি পড়বে ঘটনার উপর। মিডিয়ার মাধ্যমে পুরো ঘটনা বিশ্ববাসী জানতে পারবে। তাই সত্য এবং সঠিক ঘটনা যাতে সবাই সময়মত জানতে পারে, সেজন্য একজন মুখপাত্র আবশ্যক।

একজন মুখপাত্র চিহ্নিত করুন; Image Source: rackcdn.com

মুখপাত্রের কাজই হবে, সময়মত মিডিয়ার সামনে এসে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতির বর্ণনা করা। পুরো দুর্যোগে একজনই মিডিয়ায় সবার সাথে যোগাযোগ রাখবে, এতে করে কোন রকম দ্বিমত সৃষ্টি হয় না। তাছাড়া যদি ঘটনাস্থলে উপস্থিত সবাই একসাথে কথা বলতে থাকে, তাহলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। তাই সুন্দরভাবে গুছিয়ে সার্বিক অবস্থার বর্ণনা করতে পারে, এমন একজন মুখপাত্র নির্বাচন করে রাখুন।

৩. সততা বজায় রাখুন

আপনার কোম্পানির সবচেয়ে বেশি নেগেটিভ পাবলিসিটি তখনই হবে, যখন সেখানে মিথ্যার আশ্রয় নেয়া হবে। মিথ্যা কথা কিংবা বানোয়াট কিছু খুব সহজেই সবার চোখে ধরা পড়ে।আপনি যখন একটি মিথ্যা বলবেন, তখন অনেকগুলো হিসাব মিলানোর জন্য হলেও আপনাকে আরো অনেকগুলো মিথ্যা বলতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনার কোম্পানির উপর অনেক বাজে প্রভাব পড়বে।

সততা বজায় রাখুন; Image Source: mydentalcmo.com

তবে আপনি যদি আপনার কাজে একদম সৎ ও স্বচ্ছ থাকেন, তবে যতই গুজব ছড়াক না কেনো, সবশেষে আপনিই জয়ী হবেন।

৪. কর্মচারীদের সব কাজ সম্পর্কে অবগত করুন

আপনার কোম্পানির যেকোনো সংকটে সবার আগে যারা এগিয়ে আসবে, তারা হলো আপনার কোম্পানির কর্মচারীরা। তাদের সাথে যদি আপনি আপনার কাজের সব কিছু শেয়ার করেন, তবে সংকটের সময় তাদের অনেক সহায়তা পাবেন। তাই নিজ কর্মস্থলে কর্মচারী এবং সহকর্মীদেরকে সকল প্ল্যান সম্পর্কে অবগত করে রাখলে আপনার সব কাজ খুব সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে।

অনেক সময় নিজেদের লোকই কর্মস্থলে অনেক ধরনের গুজব ছড়ান। সেক্ষেত্রে আপনি যদি সবার সাথে বসে নিজের পরিকল্পনাগুলো শেয়ার করেন, তাহলে সেই গুজব রটানোর কোন সুযোগই থাকে না।

৫. গ্রাহক এবং সরবরাহকারীদের সাথে সবসময় যোগাযোগ রাখুন

যেকোন ব্যবসাতেই গ্রাহক এবং সরবরাহকারী থাকবেই। এরাই আপনার কাজের সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। যদি গ্রাহক না থাকে, তবে আপনার ব্যবসার কোনো অর্থই থাকবে না। আবার আপনার গ্রাহক রয়েছে কিন্তু সরবরাহ করার কোন লোক নেই, তখনো আপনি কাজ চালাতে পারবেন না।

আপনার কোম্পানি কী দুর্যোগের সম্মুখীন হচ্ছে, তা যদি মিডিয়ার মাধ্যমে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে , তখন আপনি অনেক গ্রাহক হারাবেন। এক্ষেত্রে আপনি যদি গ্রাহকদের জন্য আলাদা করে বার্তা তৈরি করে তাদের কাছে পৌঁছে দেন, তাহলে আপনার প্রতি তাদের ভরসা বজায় থাকবে। তাই সংকটের সময় আপনি কীভাবে গ্রাহক এবং সরবরাহকারীদের কাছে নিজের বার্তা পৌঁছাবেন, তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখতে হবে।

৬. সর্বদা আপডেট দিতে থাকুন

সংকটের সময় গুজব খুব দ্রুত ছড়ায়। তাই গুজব ছড়াতে দেয়ার সুযোগ দেয়া উচিত নয়। সেজন্য কিছু সময় পর পর আপডেট দেয়া ভালো। আপনি দেরি করে আপডেট জানালে অন্য কোন পক্ষ এসে গুজব ছড়াতে পারে।

সর্বদা আপডেট দিতে থাকুন; Image Source: spinsucks.com

বর্তমান যুগে প্রায় সবাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় থাকেন। তাই খুব অল্প সময়েই আপনার সংকটবস্থা নিয়ে যেমন গুজব ছড়ানো যায়, আবার ঠিক একই সময়ের মাঝে আপনি সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আপডেট দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে গুজব ছড়ানোর কোন সুযোগই থাকে না। তাই আপনাকে প্রথম থেকেই ঠিক করে রাখতে  হবে কিভাবে আপনি সবাইকে আপডেট দিতে পারবেন।

৭. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কাজে লাগান

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম; Image Source: jakpost.net

এই যুগে প্রায় সব মানুষ তার দিনের অর্ধেকের বেশী সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাটায়। কেননা  এর মাধ্যমেই আপনি আপনার অবস্থান ২৪/৭ সবাইকে জানান দিতে পারছেন। আপনার বিপদ হোক কিংবা খুশির সংবাদ আপনি খুব সহজেই সবার সাথে শেয়ার করতে পারেন, এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে।

দেশে চিকুনগুনিয়ার প্রভাব খুব বেড়ে গিয়েছিল সাম্প্রতিক, তখন সংবাদ মাধ্যমের থেকে মানুষ যতটা না এর ব্যাপারে জেনেছে, তার থেকেও বেশি জেনেছে অনলাইন বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল থেকে। এবং এই খবরগুলো সব শেয়ার করা হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার প্রভৃতির মাধ্যমে। বুঝতেই পারছেন সংকটের সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ভূমিকা কতটা বেশি।

যে কোন সংকট যদি আপনি সাহস এবং দক্ষতার সাথে মোকাবিলা না করেন, তবে বহু বছরের কঠোর পরিশ্রম নাই হয়ে যেতে দুই মিনিট সময়ও লাগবে না। তাই যেকোনো সংকটের জন্য নিজেকে সবসময় প্রস্তুত রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *