বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতা পেশায় ৯টি চ্যালেঞ্জ

Source: Medium

গত কয়েক দশক ধরে সংবাদ মাধ্যমের চাহিদা দিনকে দিন বৃদ্ধি ঘটছে। হোক সেটা কাগজে অথবা টেলিভিশন মিডিয়ার সংবাদ। তবে সবচেয়ে বড় বিপ্লব ঘটছে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে। প্রযুক্তি যেমন আমাদের প্রাত্যহিক জীবনকে সহজ করে তুলছে, তেমনি বিশ্বের সকল দেশের সংবাদ একবারে হাতের মুঠোতে পৌঁছে দিচ্ছে। বর্তমানে অনেকের ধারণা, ডিজিটাল মাধ্যমের কারণে প্রথাগত পদ্ধতির সংবাদমাধ্যমের চাহিদা কমে যাবে।

নিউ নিউজ কর্পোরেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ডেপুটি হেড অফ স্ট্রাটেজি পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজু নারিসেটির মতে, “ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যমের কারণে সংবাদ মাধ্যমে বড় ধরনের বিপ্লব ঘটছে এটা সত্য। তবে এর ফলে সংবাদপত্রে কর্মসংস্থান নিয়ে সাংবাদিকের মধ্যে বেশকিছু ভুল ধারণা  সৃষ্টি হচ্ছে। আর ফলস্বরূপ নিকট ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।”

চলুন জেনে নেয়া যাক, একজন সাংবাদিক হিসেবে আপনাকে কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, পাশাপাশি কোন কোন বিষয়গুলোতে আপনার ভুল ধারণা থাকতে পারে।

১. প্রিন্টিং পদ্ধতির প্রচলন থাকবে কিনা

বর্তমানে প্রতিটি সংবাদপত্রের অনলাইন ভার্সন রয়েছে। কিছুকিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেক সংবাদপত্র শুধুমাত্র ডিজিটাল প্রিন্টিং, যেমন, ওয়েবসাইট বা ব্লগভিত্তিক হয়ে থাকে। আর এর ফলে সংবাদপত্রে ডিজিটাল রাইটারদের যেমন চাহিদা বৃদ্ধি বেড়েছে, তেমনি প্রিন্টিং বিষয়ক কর্মীদের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। ফলে এখানে  নতুন কর্মসংস্থান কমে গেছে বলা চলে। তাই সংবাদমাধ্যমের সাথে সম্পৃক্ত কর্মীদের  ডিজিটাল প্রযুক্তির উপর দক্ষতা অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

Source: Medium

অন্যদিকে আশার খবর হচ্ছে, পৃথিবী যতই আধুনিক হতে থাকুক না কেন, কাগজে মুদ্রিত সংবাদপত্রের চাহিদা সবসময়ই থাকবে। কারণ সংবাদপত্রের মূল আয় এবং মুনাফার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ আসে মুদ্রিত কাগজ হতে।

২. ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে বিপত্তি

যেকোনো সংবাদ মাধ্যমের অন্যতম আয়ের উৎস হচ্ছে বিজ্ঞাপন প্রচার করা। ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ফলে যেমনি সবার কাছে কী পরিমাণ প্রচারণা হচ্ছে জানা যাচ্ছে, তেমনি শুধুমাত্র বেশি ভিজিট হওয়া ওয়েবসাইটেই বিভিন্ন কোম্পানি তাদের বিজ্ঞাপন দিতে আগ্রহী হচ্ছে। ফলে তৈরি হচ্ছে চাহিদার হেরফের।

অন্যদিকে মুদ্রিত কাগজের সংবাদপত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের প্রচারণা চালিয়ে থাকেন। যেখানে ডিজিটাল মাধ্যমে দেখা ও ভিজিটিংয়ের উপর অর্থ পরিশোধ করা হয়। ফলস্বরূপ অধিক বিজ্ঞাপন প্রচারণা সংক্রান্ত আয় শুধুমাত্র মুদ্রিত সংবাদমাধ্যম হতেই পাওয়া সম্ভব হয়ে থাকে।

৩. ডিজিটাল মাধ্যমে আয় নিয়ে সংগ্রাম

কিছু ডিজিটাল পত্রিকায় পারিশ্রমিকের পরিমাণ নির্দিষ্ট করা থাকলেও অধিকাংশ ডিজিটাল পত্রিকায় দেখা যায়,  আর্টিকেল ভিজিট সংখ্যার উপর ভিত্তি করে সাংবাদিকদের পারিশ্রমিক প্রদান করা হয়। ফলে সেসকল সাংবাদিকদের নিজেদের আর্টিকেল জনপ্রিয় করার জন্য প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়।

Source: Medium

 দিনশেষে প্রায়ই দেখা যায়, তারা কাঙ্ক্ষিত পারিশ্রমিক অর্জন করতে পারেননা। অন্যদিকে মুদ্রিত সংবাদপত্রে   সাংবাদিকদের নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক প্রদান করা হয়। যা ডিজিটাল মাধ্যমের সাংবাদিকদের থেকে যথেষ্ট বেশিই হয়ে থাকে।

৪. সংবাদ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া

মুদ্রিত সংবাদপত্র মহল্লার দোকান হতে শুরু করে প্রতিটি জনবহুল পথঘাটে পাওয়া যায়। এছাড়া হকাররা বিভিন্ন ধরনের পত্রিকা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেন। অন্যদিকে ডিজিটাল মাধ্যমে পাঠকদের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে ভিজিট করে খবরাখবর পড়তে হয়।

Source: Medium

এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের এসইও বা ‘সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন’ সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখতে হবে। এভাবে মুদ্রিত পদ্ধতির চেয়েও অতি সহজে বিশ্বের সকল স্থানের পাঠকের কাছে দ্রুত সংবাদ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

৫. ভিডিও সংবাদের প্ররোচনা

মুদ্রিত সংবাদমাধ্যম এবং একই সাথে টেলিভিশন সংবাদ মাধ্যমের কাজ করতে পারে এই ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যমগুলো। সহজে দ্রুতগতিতে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ফেসবুক অথবা ইউটিউবের জুড়ি নেই। আর সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় ভিডিওর জন্যও সবাই ডিজিটাল মাধ্যমে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

Source: Medium

তাই ভিডিও সংবাদ পরিবেশনের জন্য সাংবাদিকদের ভিডিও নির্মাণের ক্ষেত্রে অবশ্যই দক্ষতা অর্জন করতে হবে। প্রয়োজনে প্রফেশনাল ট্রেনিংসহ গ্রাফিক্সের বিভিন্ন ধরনের কাজ শিখে রাখতে হবে।

৬. মোবাইল সংবাদের প্রাধান্য

গত দশকে দেখা যেত, বেশিরভাগ ডিজিটাল মাধ্যমের পাঠকরা কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপের সাহায্যে ওয়েবসাইট ভিজিট করতেন। তবে বর্তমান সময়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ পাঠক মোবাইলের মাধ্যমে সংবাদ পড়ে থাকেন। কারণ বিশ্বের যে প্রান্তেই পাঠক থাকুন না কেনো, তাদের সাথে স্মার্টফোন অবশ্যই থাকবে। অন্যদিকে ল্যাপটপ সর্বদা বহন করা সমস্যাই বটে। ফলে ডিজিটাল সংবাদ প্রচারের জন্য আর্টিকেল ও ওয়েবসাইট ডিজাইনিংয়ের বিষয়টিতে  প্রাধান্য পাচ্ছে মোবাইল ওয়েবসাইটগুলো।

৭. সেরা সংবাদ প্রদানের থেকে পাঠকের চাহিদার প্রতি গুরুত্ব

বিভিন্ন সোর্স ও ডিভাইসে তথ্য আদানপ্রদান সহজ হয়ে আসায় পাঠকদের সময়ে ভাগ বসানো নব্য অর্গানাইজেশনের জন্য বেশ সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেখা যায়, নতুন আকর্ষণীয় সংবাদ অথবা অসাধারণ রিপোর্ট লিখেও আপনি আপনার চাহিদা অনুসারে পাঠক পাচ্ছেন না। কারণ বর্তমান সময়ে নতুন নতুন তথ্যের ভিড়ে সকল ধরনের সংবাদে পাঠকরা আগ্রহী হয়ে উঠেন না।

Source: Medium

তাই ডিজিটাল মাধ্যমে তাজা সংবাদ পরিবেশনের  উপর গুরুত্ব বেশি না দিয়ে পাঠকদের চাহিদা অনুসারে তথ্য প্রদান করতে হবে। ধরে রাখবেন, পাঠক আপনার আর্টিকেল দুই মিনিটের বেশি পড়বেন না।  সেক্ষেত্রে তাদের চাহিদা অনুসারে আর্টিকেল আর রিপোর্টগুলো সাজিয়ে নিন। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ের দিকে না ঝুঁকে নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের উপর আপনার সংবাদমাধ্যম সাজিয়ে নিতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *