স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করে লুফে নিন ভালো চাকরি

সমাজের মানুষের উন্নয়নের জন্য বিনালাভে কিছু করার নামই হলো স্বেচ্ছাসেবা। নিজের পছন্দমত অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে এমন কাজ করতে পারাটা সত্যিই আনন্দদায়ক। এতে মানুষ হিসেবে মানুষের প্রতি দায়িত্বও যেমন পালন করা হয়, তেমনি মানসিক সন্তুষ্টিও পাওয়া যায়।

ছবিসূত্রঃ sabarelief.org

যদিও তরুণ বয়সে এরকম স্বেচ্ছাসেবী কাজকে অনেকে অনর্থক সময় নষ্ট মনে করেন। কিন্তু এর মাধ্যমেও উন্মোচিত হতে পারে আপনার ভবিষ্যত ক্যারিয়ারের সাফল্যের পথ। আর কীভাবে তা সম্ভব, তার কিছু উপায়ই বর্ণনা করা হলো আজকের এই আলোচনায়।

১. নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ

চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় কাজ হল নিজের পরিচিতি বাড়ানো তথা অনেকের সাথে পরিচিত হওয়া। বর্তমানে চাকরির ক্ষেত্রে রেফারেন্স একটি বড় ভূমিকা পালন করে। আর স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে আপনি সমমনা অনেকের সাথে পরিচিত হতে পারবেন।

ছবিসূত্রঃ hbofm.org

যে কোন এনজিওতে যখন সেবামূলক কোন কাজ করা হয়, তখন সেখানে নানা বয়সের বিভিন্ন কাজে অভিজ্ঞ ও অনভিজ্ঞরা একসাথে কাজ করেন। তাই এখানে অনেকের সাথে মেশার ও পরিচিত হওয়ার সুযোগও বেশি থাকে।  হয়তো এদের কারো রেফারেন্সেই আপনি পেয়ে যেতে পারেন  আপনার স্বপ্নের চাকরির সন্ধান।

২. বিভিন্ন ক্যারিয়ার নিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ

স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানে আপনাকে বিভিন্ন রকম কাজের দায়িত্ব নিতে হতে পারে। আর বিভিন্ন কাজের মাধ্যমেই আপনি সে কাজ কীভাবে করতে হয়, কী কী সমস্যা হয় এবং  কীভাবে সমস্যা সমাধান করতে হয়  ইত্যাদি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। এ থেকে আপনি নিজের সম্পর্কেও নতুন ধারণা পাবেন।

ছবিসূত্রঃ Times Higher Education

আপনি কোন কাজে পারদর্শী বা কোন কাজে আপনার আগ্রহ আছে ইত্যাদি সম্পর্কে আপনি বুঝতে পারবেন । এভাবে পরোক্ষভাবে বিভিন্ন ক্যারিয়ার ও আপনার পছন্দ সম্পর্কে আপনি ধারণা লাভ করতে পারবেন যা পরবর্তীতে সঠিক ক্যারিয়ার বাছাই করতে আপনাকে সাহায্য করবে।

৩. সিভিতে কাজের অভিজ্ঞতা দেখাতে

চাকরির ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বেচ্ছাসেবী কাজের অভিজ্ঞতা সিভিতে গুরুত্মপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০১৩ সালের একটি পরিসংখ্যানে ৭৬ শতাংশ চাকরিদাতা জানান, যে সকল চাকরিপ্রার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী কাজের অভিজ্ঞতা ছিল, তাদেরকেই তারা চাকরি দিয়েছেন। অর্থাৎ স্বেচ্ছাসেবী কাজের অভিজ্ঞতা চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা পালন করেছে।

স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা সিভিতে কাজে লাগে ; ছবিসূত্রঃ US News Money – US News & World Report

তাই লেখাপড়ার পাশাপাশিও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা যেতে পারে। এতে ছাত্রজীবন থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি  নিজের কাজের অভিজ্ঞতা যেমন বাড়বে, তেমনি পরবর্তী  প্রতিযোগিতাপূর্ণ চাকরিজীবনের জন্যও নিজেকে প্রস্তুত  করা সম্ভব হবে। আর লেখাপড়া শেষ করার সাথে সাথেই নানারকম চাকরীর সুযোগও পাবেন।

তাই ছাত্রজীবনে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা মোটেও সময়ের অপব্যয় নয়, বরং সময়কে কাজে লাগানোর একটি বড় সুযোগ।

৪. সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের ধারণা লাভ

স্বেচ্ছাসেবী কাজের মাধ্যমে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সম্পর্কে ভালোভাবে জানা যায়।  তাছাড়া কী করে বিভিন্ন পদের মানুষের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলতে হয়, সে সম্পর্কেও ভালো ধারণা পাওয়া যায়।

বর্তমান প্রতিযোগিতাময় যুগে নিজের একটা জোরালো অনলাইন প্রোফাইল চাকরীর ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। লিংকডইন, ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদিতে অনেক স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপ আছে। এগুলোতে যোগদানের মাধ্যমে অনেক ধরনের মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া যায়। তাছাড়া এগুলোর মাধ্যমে অনলাইনেও অনেক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করা যায়, যা আপনার অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করবে। তাছাড়া অনেক মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার কারণে যে কারো কাছ থেকে আপনি চাকরির সুবিধা পেতে পারেন।

৫. ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হওয়া

স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করে যেমন বিভিন্ন ধরণের মানুষের সাথে পরিচিতি হওয়া যায়, তেমনি বিভিন্ন পরিস্থিতিরও সম্মুখীন হতে হয়। ফলে বিভিন্ন মানুষের মানসিকতা, পারিপার্শ্বিক অবস্থা ইত্যাদি সম্পর্কে স্বেচ্ছাসেবীরা অনেক বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

আবার বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবেলা করতে হয়, তা নিয়েও অনেক ধারণা লাভ করা যায়। ফলে স্বেচ্ছাসেবীরা  অজানা অনেক বিষয় জানতে ও উপলব্ধি করতে পারেন। তাছাড়া কোনো পারিশ্রমিক আশা না করে যখন কেউ মানুষের কল্যাণে কাজ করেন, তখন তার মধ্যে একটা আত্মতৃপ্তি কাজ করে। এ থেকে ধীরে ধীরে তার মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়।

ছবিসূত্রঃ Live Generously

আবার অনেকে আছেন, যারা জন্মগত ভাবেই আত্মবিশ্বাসী ও সাহসী। যে কোনো মানুষের সাথেই তারা সহজে মিশতে পারেন। কিন্তু অনেকে আবার কারো সাথে সহজভাবে কথা বলতেও সংকোচবোধ করেন। স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার সময় অনেক মানুষের সাথে কথা বলতে হয়, ওঠাবসা করতে হয়। ফলে নিজের জড়তা দূর হয়, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়, মনোবলও বাড়ে। আর এসব ইতিবাচক গুণাবলি চাকরিক্ষেত্রেও অনেক কাজে লাগে।

দেশের একজন নাগরিক হিসেবে দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি আমাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে দেশের অনেক উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত হওয়া সম্ভব। আবার পাশাপাশি নিজেকেও  একজন উপযুক্ত চাকরিপ্রার্থী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

তাই আপনি ছাত্র বা চাকরিপ্রার্থী যাই হয়ে থাকুন না কেন, কখনও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেলে হাতছাড়া করবেন না। কে বলতে পারে, হয়তো  আপাতদৃষ্টিতে  অনর্থক এই কাজটিই আপনাকে এনে দিতে পারে বড় কোনো চাকরির সুযোগ।

Featured Image: St. Joseph Catholic School

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *