ভিসা পাওয়ার জন্য যে টিপসগুলো মেনে চলা আবশ্যক

দেশে পড়াশোনা করার পর অনেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষা লাভের ইচ্ছা পোষণ করে থাকেন। কিন্তু এর জন্য আপনাকে একটি বিশেষ ধাপ পেরোতে হবে, আর তা হল কাঙ্ক্ষিত দেশের ভিসা পাওয়ার জন্য সাক্ষাতকার দেয়া।

ছবিসূত্রঃ Travelvisa.Ng

ভিসা সাক্ষ্যাৎকার দিলেই যে আপনি সে দেশে যাওয়ার জন্য ভিসা পেয়ে যাবেন বিষয়টি এতো সহজ নয়। তাই জেনে নিন ভিসা পেতে সক্ষম হবার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

ভিসা অফিসারকে নিজের সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিন

দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেকেই বিভিন্ন ভাবে বিদেশে যাওয়ার পর ছলনার আশ্রয় নিয়ে অবৈধ ভাবে সেই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন বা করতে চান। একারণেই ভিসা অফিসাররা সবসময় যে কোন বিদেশির প্রতি সন্দিহান থাকেন। ফলে আপনার সে দেশে যাবার উদ্দেশ্য,কাজ ইত্যাদি সম্পর্কে সুস্পষ্ট তথ্য ও প্রমাণ চেয়ে থাকেন। ভিসা সাক্ষাতকারে তারা সর্বপ্রথম এটাই প্রশ্ন করে থাকেন যে, আপনি কেন সে দেশে যেতে চান।

ছবিসূত্রঃ morevisasusercomplaints.com  

এক্ষেত্রে টিপস হল যে করেই হোক আপনাকে বোঝাতে হবে আপনি খুব অল্প সময়ের জন্য শুধুমাত্র লেখাপড়া করার উদ্দেশ্যেই সে দেশে যেতে চাইছেন। প্রয়োজনে আপনি স্বদেশে আপনার চাকরী,ব্যবসা ইত্যাদির কথা প্রমাণসহ তাকে জানাতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, ভিসা অফিসাররা যে কোন মিথ্যা বা জাল প্রমাণ বা তথ্য শনাক্ত করতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। সামান্য খুঁত পেলে বা সন্দেহ হলেই তারা ভিসার অনুমতি দেবেন না। তাই কোনরকম চালাকি না করাই ভালো।

তবে আপনি যে দেশে যেতে চান, সে দেশে পড়াশোনা বা ভিসা সংক্রান্ত অসংখ্য গ্রুপ ফেসবুকে পাবেন। সেখান থেকে জেনে নিন ভিসা সাক্ষাতকারে কি কি প্রশ্ন করা হয়। অভিজ্ঞদের মাধ্যমে সে সকল প্রশ্নের উত্তরগুলো কেমন হলে ভাল হয় সেগুলোও জেনে নিন। এতে পূর্ব প্রস্তুতি নিতে পারবেন এবং সাক্ষাতকারের সময় যে কোন প্রশ্নের উত্তর সাবলীলভাবে দিতে পারবেন।

বিদেশী ভাষা শিখুন

আপনি যে দেশে যেতে চান সে দেশে যদি ইংরেজি ভাষার প্রচলন থাকে, তবে ইংরেজি ভাষা ভালভাবে শিখে নিন। কারণ এসব দেশে যাওয়ার আগে ভিসা সাক্ষাতকারে অফিসারের সাথে ইংরেজিতেই কথা বলতে হবে। অন্য কোন দেশ যেখানে ইংরেজি ভাষার প্রচলন নেই, সে দেশে ভিসা পাওয়ার জন্য সে দেশের ভাষা শেখার প্রয়োজন হতে পারে আবার নাও পারে।

যেমন, জার্মানিতে পড়াশুনা করার জন্য যেতে হলে অবশ্যই সেই ভাষা শিক্ষার ৩ মাসের কোর্স করতে হয় এবং ভিসার অন্যান্য কাগজের সাথে এই ভাষা শিক্ষার সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়। আপনি যে দেশে যেতে চান, সেই দেশের ভিসা পাওয়ার জন্য ভাষা শিক্ষা প্রয়োজন কিনা তা ইন্টারনেট থেকেই জেনে নিতে পারেন।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন

ভিসা সাক্ষাতকারে যাওয়ার আগে নিজের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়েছেন কি না দেখে নিন। শুধু সঙ্গে রাখা নয়, কাগজপত্রগুলো ঠিক ক্রম অনুযায়ী সাজানো আছে কি না দেখে রাখুন। গুরুত্বপূর্ণ কাগজগুলাওর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র, পারিবারিক ছবি, ব্যাংকের স্টেটমেন্ট, আয়করের কাগজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আই২০ ইত্যাদি। এছাড়া সাথে ভিসা আবেদনপত্রের কপি রাখতে পারেন।

 

ছবিসূত্রঃ e3 Work Visa

আপনার ভিসা যদি একবার বাতিলও হয়, তবুও ভিসা অফিসে আপনার ভিসার আবেদনপত্রটি জমা থাকে। পরবর্তীতে আপনি যদি আবার ভিসার জন্য আবেদন করেন তবে উভয় আবেদনপত্র অফিসে মিলিয়ে নেয়া হয়। ফলে যদি আবেদনপত্র দুইটিতে কোন তথ্যের অমিল বা পরিবর্তন করা হয়ে থাকে তবে পরবর্তীতেও আপনার ভিসা পাবার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।

আপনার ফাইলগুলো একটি প্লাস্টিক ফোল্ডার বা ফাইলে রাখুন জেনো তা ভিসা অফিসারের দেখতে সুবিধা হয়। ভিসা রিকোয়ারমেন্টে কোন সিরিয়ালে কাগজগুলো রাখতে হবে তা লেখা আছে। সেই অনুযায়ী কাগজ গুছিয়ে রাখুন।

সময়মতো অ্যামবাসিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন

ভিসা আবেদনকারীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত সময় সম্পর্কে সচেতন থাকা। আপনার সাক্ষাতকারের সময়ের আগেই অ্যামবাসিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। রাস্তার জ্যাম বা যে কোনো সমস্যা এড়ানোর ব্যবস্থা করুন। ভিসা সাক্ষ্যাৎকারের জন্য অনেকটা সময় কখনও কখনও দিনের অর্ধেকও লেগে যেতে পারে। তাই অ্যামবাসিতে প্রবেশের আগে পানি ও খাবার খেয়ে নিন। অ্যামবাসিতে খাবার নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ। এছাড়া যেকোনো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস যেমন, মোবাইল ফোন, ক্যামেরা ইত্যাদি সাথে রাখাও নিষিদ্ধ।

ছবিসূত্রঃ Jamaica Observer

অ্যামবাসির ভেতরে প্রবেশ করার পর সর্বপ্রথম আপনাকে ইন্টারভিউ নাম্বার সংগ্রহ করতে হবে। এরপর আপনাকে মূল ভবনে প্রবেশ করতে হবে যেখানে আপনার সাক্ষ্যাৎকার নেয়া হবে।

সামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাক পড়ুন

আপনি যদি ছাত্রত্বের জন্য ভিসার (Student Visa) জন্য আবেদন করেন, তবে আপনি এমন পোশাক পড়ুন যেন সহজেই বোঝা যায় আপনি ছাত্র। যদি ব্যবসার কারণে ভিসা পেতে চান তবে ব্যবসায়ীর মতো পোশাক পড়ুন। অতিরঞ্জিত পোশাক পড়বেন না। আপনার পোশাকও ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।

সাক্ষ্যাৎকারের সময় আত্মবিশ্বাসী কিন্তু ভদ্রভাবে কথা বলুন। অতিমাত্রায় হাসিখুশি ও চঞ্চলভাব কিংবা ভীতি ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ততা উভয়ই ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে নেতিবাচক হতে পারে। ভিসা অফিসারের প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিন। অল্প কথায় গুছিয়ে মূল বক্তব্য পেশ করুন।

ফান্ডিং বা টাকা আয়ের ব্যাপারে ভিসা অফিসারকে নিশ্চিত করুন

ছবিসূত্রঃ nexian.es

ভিসা অফিসার বার বার এটাই নিশ্চিত হতে চাইবেন যে আপনার ভবিষ্যতে নিজ দেশে ফিরে আসার পরিকল্পনা আছে নাকি সে দেশেই থেকে যেতে চান। আপনাকেও আপনার বক্তব্য দ্বারা প্রমাণ করতে হবে যে, আপনি সে দেশে যেতে চান শুধু পড়াশুনা করার জন্য। যদিও ছাত্রদের জন্য দিনে নির্দিষ্ট কিছু ঘন্টা কাজের ক্ষেত্রে ব্যয় করার অনুমতি আছে, তবুও আপনি কখনোই ভিসা অফিসারকে বলবেন না যে, আপনি সেখানে কাজ করে ফান্ডিং জোগাড় করবেন।

ভিসা পেতে হলে আপনাকে প্রয়োজনীয় আর্থিক উৎস প্রমাণসহ দেখাতে হবে। তবে  ইউনিভার্সিটি থেকে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পেলে অনেকসময় ভিসা অফিসাররা নিজস্ব আর্থিক উৎস দেখতে চান না। তবে অবশ্যই আর্থিক সচ্ছলতার প্রমান সাথে রাখাই ভালো।

যদিও এই টিপসগুলো আপনার ভিসা পাওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা দেয় না, কিন্তু এই টিপসগুলো না মানলে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Featured Image: Wikipedia 

6 Comments

Leave a Reply

One Ping

  1. Pingback:

Leave a Reply to Abdur Rahim Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *