টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের খুঁটিনাটি

source; Ukran Soochi

আপনি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পার করেছেন। এখন কি করবেন ঠিক বুঝতে পারছেন না। টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে শুনেছেন, কিন্তু নির্দিষ্ট কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারছেন না। কারণ, আপনার এই বিষয় সম্পর্কে কোন ধারণা নেই। 

তাহলে আজকের এই লেখাটি আপনার জন্য। টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করলে কী কী করার সুযোগ পাবেন, পাশাপাশি টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়তে  হলে আপনাকে কী কী পড়তে হবে,  তা জানতে পারবেন এই লেখার মাধ্যমে।

বর্তমান যুগে তথ্য আদান প্রদানের বিকল্প নেই। একটা সময়  টেলিফোনের এক প্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে কথা বলাটাই ছিলো বিস্ময়। কিন্তু এখন আমরা কেবল কথা বলেই ক্ষান্ত হইনা, বিনিময় করি অডিও, ভিডিও, টেক্সট, গ্রাফিক্স, ইমেজ ও অ্যানিমেশন।    

আধুনিক যুগে কিভাবে, কে কত দ্রুত এবং কত নিখুঁতভাবে  তথ্য আদান প্রদান করতে পারে সেটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে মূল লক্ষ্য। এ জন্য নতুন নতুন মাইক্রো ডিভাইসসহ তৈরি হচ্ছে আকর্ষণীয় সব ইলেক্ট্রনিক্স এন্ড টেলিকমিউনিকেশন প্রোজেক্ট। এরই ফলশ্রুতিতে, টেলিকমিউনিকেশন তথা টেলিযোগাযোগ সকলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।  

কমিউনিকেশন টাওয়ার; source: midwesternconsulting

কেন পড়বেন টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং?

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে আজ গড়ে উঠেছে অনেক বড় বড় টেলিকমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠান, যেমন টিএন্ডটি, ভেরিয়ন, জার্মান টেলিকম, চায়না মোবাইল, অরেঞ্জ, ভোডাফোন, টেলিনর, ওয়ার্ল্ড টেল প্রভৃতি। এই বিষয়ের উপর হাতে-কলমে জ্ঞান অর্জনের জন্য বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস প্রয়োজন। এর মধ্যে ওয়েব প্রপাগেসন ট্রেনার, স্পেকট্রাম এনালাইজার, ওসিলিস্কপ, কমিউনিকেশন ট্রেনার, ফাইবার অপটিক ট্রেনার, ডিজিটাল সিগনাল প্রসেসিং ট্রেনার, নেটওয়ার্ক ট্রেনার সিস্টেম, মোবাইল কমিউনিকেশন ট্রেনার, মাইক্রো-প্রসেসর কিট, ভিএলএসআই ডিজাইন কিট, রাউটার, সুইচ, টিমস মেশিন প্রভৃতি অন্যতম।

কেন গড়বেন টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ক্যারিয়ার?


যুগের ধারাবাহিকতায়, পৃথিবীর সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। আমাদের দেশে গড়ে উঠেছে বড় বড় টেলিকমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে টেলিটক বাংলাদেশ, গ্রামীণফোন, এয়ারটেল বাংলাদেশ, রবি, সিটিসেল, বাংলালিংক ইত্যাদি কোম্পানির পাশাপাশি বিটিসিএল, মীর টেলিকম, এডিএন, মেট্রোনেট, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি, অনিক টেলিকম ইত্যাদি অন্যতম। 

এসব কোম্পানিতে প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি পেলে আপনি যেমন আপনার ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন, ঠিক তেমনি আপনি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে উন্নতির পথে নিয়ে যেতে পারবেন। আর, এজন্যই আপনি টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। 

টেকফেস্ট, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম; source: লেখক

কোথায় পড়বেন টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং?

আমাদের দেশে প্রায় সব কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়েই এই বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন এবং পোষ্ট গ্র্যাজুয়েশন করার সুযোগ রয়েছে। বুয়েট থেকে শুরু করে প্রায় সকল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিভাগে পড়ার সুযোগ আছে।

টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড্রোয়েড আইকন; source: PNG Download

টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে হলে কী কী পড়তে হবে?

এটি নির্ভর করে আপনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন, তার উপর। তবে, প্রধান কিছু কোর্স আছে যা আপনাকে সব ভার্সিটিতেই পড়তে হবে,

  • আপনাকে অবশ্যই সার্কিট নিয়ে পড়তে হবে।
  • ইলেকট্রনিক ডিভাইস সম্পর্কেও পড়তে হবে।
  • গণিতের উপর ৫ টা কোর্স করতে হতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে কোর্সসংখ্যার পার্থক্য হতে পারে।
  • কম্পিউটার প্রোগ্রামিং নিয়ে অন্তত ২ টি কোর্স করতে হবে।
  • পদার্থ বিজ্ঞানের উপর ১ টি বা ২ টি কোর্স করতে হবে।
  • ডাটা স্ট্রাকচার, ডিএলডি অবশ্যই থাকবে।
  • সর্বশেষ, নেটওয়ার্কিং অবশ্যই পড়তে হবে। মূলত এটিই হবে আপনার প্রধান কোর্স।

এর পাশাপাশি আরো অনেকগুলো বিষয় পড়তে হবে, যেগুলো আপনার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রে যোগ্যতা নিশ্চিত করবে।

টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্টেনা; source: Desh Prothikhon

এ বিভাগে পড়লে কি বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও স্কলারশিপের সুযোগ আছে?

পৃথিবীর প্রায় সবকটি দেশেই এই বিভাগে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আছে। পাশাপাশি, ফুল ফ্রি স্কলারশিপ পাওয়ারও সম্ভাবনা আছে। বিশেষ করে মাস্টার্স প্রোগ্রামে আপনি আমেরিকা, কানাডা, জার্মানি প্রভৃতি দেশে স্কলারশিপ নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারবেন।

টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে কি পড়লেই হবে, নাকি অতিরিক্ত দক্ষতা লাগবে?

আপনার মতো একই প্রাতিষ্ঠানিক ছাড়পত্র নিয়ে প্রতিনিয়ত কত শত ইঞ্জিনিয়ার বের হচ্ছেন। এদের প্রায় সবাই আপনার সাথে প্রতিযোগিতা করবেন।

এখন, ধরুন আপনি একটি কোম্পানিতে কর্মী নিয়োগ দিবেন। আপনি এই  আবেদনগুলোর মধ্যে কাকে বেছে নিবেন? নিশ্চয়ই এমন কাউকে যার ছাড়পত্রের পাশাপাশি অতিরিক্ত কিছু দক্ষতা আছে, যা আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয়। তাইনা?

তাই, আপনার নিজেরও অতিরিক্ত কিছু দক্ষতা থাকা প্রয়োজন ।অতিরিক্ত দক্ষতা হিসেবে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্টের কাজে পারদর্শী হতে পারেন। এসব অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময় শিখে নেওয়া যায়।

পাশাপাশি প্রোগ্রামিংয়ের দক্ষতা অনেক বেশি জরুরি। যেকোন একটি অবজেক্ট অরিয়েন্ট প্রোগ্রামিংয়ের দক্ষতা আপনাকে অনেক বেশি যোগ্য করে তুলবে।

উপরের দক্ষতাগুলির অর্জনের জন্য আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে গিয়ে কোর্স করতে হবেনা। ভার্সিটিতেই মনোযোগ দিয়ে করে ফেললে হবে। তবে আপনাকে একটু অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হবে।

টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্টেনা; source: Tti Limited

বাংলাদেশে টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি করলে বেতন কত হবে?

টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে শুরুতে আপনি ন্যূনতম ১৫০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪০০০০ টাকার মতো পাবেন। তবে সময়ের সাথে সাথে পদমর্যাদা বাড়ার সাথে সাথে বেতন বাড়তে থাকে।

সব মিলিয়ে চিন্তাভাবনা করে দেখুন। আপনার যদি মনে হয়,  আপনি টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন, তাহলে আর দেরি না করে চেষ্টা শুরু করে দিন। আপনার জন্য তথ্যপ্রযুক্তির এক আনন্দময় রহস্য উন্মোচনের অপেক্ষায় আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *