সফল নারীরা যেভাবে নিজেদের শীর্ষস্থানীয় পদে প্রতিষ্ঠিত করলেন

যুগে যুগে সফল নারীদের অদম্য প্রত্যয় তাদেরকে সব বাধাবিপত্তি মোকাবেলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস যুগিয়েছে। নারীদের অগ্রগতিতে কতরকম বাধাবিপত্তি আসতে পারে তা নিয়ে অনেক গবেষণা ও পর্যালোচনা ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। এখানে আমরা তুলে ধরব যে এত বাধা বিপত্তি সত্তেও কিছু নারীরা কিভাবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন উচ্চকর্মপদে।

ছবিসূত্রঃ Career Intelligence

এ লেখার মূল লক্ষ্য হল, বর্তমান নারী সিইওরা তাদের সাফল্যকে কিভাবে দেখছেন তা জানা এবং যারা নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন সেসকল নারীদের জন্য তাদের পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা।

এর জন্য বিশ্বব্যাপী প্রায় বেশ কিছু সংখ্যক শীর্ষস্থানীয় পদে কর্মরত নারীদের সাক্ষ্যাৎকার নেয়া হয়। তাদের মূল বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, যদি কোন নারী নিজেকে শীর্ষস্থানীয় পদে অধিষ্ঠিত করতে চায় তবে তার জন্য আছে কিছু মূলমন্ত্র। এগুলো নিয়েই আজকের এই আলোচনা।

১. লক্ষ্য নির্ধারণ ও তাতে অটল থাকা

নারীদের জীবনে যে কোন লক্ষ্য নির্ধারণ করতেও অনেক বাধার সম্মুখিন হতে হয়। সিইও বা এরকম অন্যান্য শীর্ষস্থানে অধিষ্ঠানের জন্যও তাকে প্রতি ধাপেই প্রতিযোগিতা করে যোগ্যতার প্রমাণ দেবার জন্য অনেক কষ্ট করতে হয়। তাই যদি কোন নারী নিজেকে শীর্ষস্থানে দেখতে চায়, তবে তার লক্ষ্য হতে হবে অবিচল ও অটল।

ছবিসূত্রঃ Medium

এমনকি যদি কোন নারী নিজের সম্ভাবনা ও যোগ্যতাকে যথাযথভাবে প্রমাণ করতে পারেও, তবুও কোম্পানির প্রচার ও প্রসারসংক্রান্ত কাজের ক্ষেত্রে তাকে নানারকম বাধা যেমন, উপযুক্ত ও যথেষ্ট বিনিয়োগ ও বিনিয়োগকারী খুঁজে না পাওয়া, আত্মপ্রচারে অনীহা ইত্যাদির সম্মুখীন হতে হয়।

এ সব বাধা কাটিয়ে ওঠার জন্য সফল নারীদের পরামর্শ হল, প্রতিটি নারীকে নিজেদের প্রতিভা, সম্ভাবনা ও একইসাথে তাদের দুর্বলতা ও অপারগতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতে হবে যাকে বলা হয়, সেলফ এক্সেপ্টেন্স। এতে নারীরা কাজের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের দুর্বলতাকে কাটিয়ে ওঠার জন্য সচেষ্ট হতে পারেন এবং নিজেদের মেধা ও দক্ষতার বিকাশ ঘটিয়ে নিজেকে আরও উন্নত করতে পারে।

২. সুযোগের অপেক্ষায় না থেকে নিজেই সুযোগ খুঁজে বের করা

নারীদের নিজ মেধা বিকাশের জন্য নিজেকেই সচেষ্ট হতে হবে। স্ট্রেচ এসাইনমেন্ট এক্ষেত্রে একটি ভাল উপায়। নিজেদের দুর্বলতা খুঁজে বের করা ও আনুষঙ্গিক কাজের মাধ্যমে তাকে দূর করার জন্য বিভিন্ন এসাইনমেন্ট বা ওয়ার্কশপ করা হয় যাকে বলা হয় স্ট্রেচ এসাইনমেন্ট। নিজের মেধা ও দক্ষতার বিকাশের জন্য নারীদেরকে নিজেদেরই এ ধরণের ওয়ার্কশপগুলো খুঁজে বের করতে হবে এবং আত্মপ্রত্যয়ী হতে হবে।

ছবিসূত্রঃ Youth Village Nigeria

তবে শুধু এক্ষেত্রে নয়, নিজেকে প্রমাণ করবার জন্যও প্রয়োজন সুযোগ বা উপযুক্ত পদ বা চাকরী। সফল নারীরা মনে করেন, নারীদের পিছিয়ে থাকার অনেক বড় একটি কারণ হল তারা যথাযথ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নিজের থেকে সুযোগ বা চাকরী চাইতে সংকোচ বোধ করে। কিন্তু তারা যদি আত্মবিশ্বাসী হয় ও নিজেকে যোগ্য মনে করে, তবে সুযোগ চাইতে লজ্জার কিছু নেই, বরং অদূর ভবিষ্যতে এটিই হতে পারে সৌভাগ্যের কারণ।

এছাড়াও তারা মনে করেন, কোন নারী যদি সম্পূর্ণভাবে কোন কাজ বা চাকরীর জন্য যথাযথ যোগ্যতাসম্পন্ন নাও হন, তবুও তার নিজের থেকে সেই কাজের জন্য চেষ্টা করা উচিত। এটা একটা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবার মত। এভাবেই ঘাত প্রতিঘাত ও চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মাধ্যমেই নারীরা শীর্ষস্থানে উন্নীত হবার যোগ্যতা অর্জন করে, সুযোগের অপেক্ষায় ঘরে বসে থেকে কখনোই নয়।

৩. নিজের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন উভয়ের প্রতিই নিজে দায়িত্ববান হওয়া

ছবিসূত্রঃ EuroScientist

অনেকের ধারণা যে সকল নারীরা শীর্ষস্থানীয় পদে আছেন তারা ঘর-সংসারের কিছুই সামলান না। কিন্তু এ ধারণা সত্য নয়। অধিকাংশ শীর্ষস্থানীয় নারীরা নিজ হাতে তাদের সন্তান ও সংসারের সব দায়িত্ব সামলান। মনোবিদদের মতেও সংসার ও কর্মজীবন উভয়ের কোনোটিতে দায়িত্বে অবহেলা করলে অন্যটি সুন্দরভাবে চালানো সম্ভব নয়।

কারণ উভয়ক্ষেত্রেই নারীর নিজস্ব আবেগ জড়িত থাকে, একটিতে অবহেলা করে অন্যটিতে পূর্ণ মনোযোগ দেয়া নারীর পক্ষে সম্ভব হয় না যা পুরুষদের পক্ষে খুব সাধারণ ব্যাপার। বরং উভয়ই নিজ হাতে সামলাতে প্রথম প্রথম একটু কষ্ট হলেও পরবর্তীতে তা আয়ত্তের মধ্যে চলে আসে। তাছাড়া মানসিক সন্তুষ্টি থাকে বলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নারী উভয় দিকেই মনোযোগ দিতে পারেন এবং নিজেকে এগিয়ে নিতে পারেন আরও সামনের দিকে।

৪.  নিজের লক্ষ্য অর্জনের প্রতি মনোযোগী হওয়া

ছবিসূত্রঃ The Telegraph

পরিবার ও কর্মজীবন এই দুটোকে একত্রে পরিচালনা করাকে অনেকে দুঃসাধ্য মনে করেন। তাই ক্যারিয়ারের মাঝপথেই পরিবারের প্রয়োজনে নারীরা কর্মজীবন ত্যাগ করেন। কিন্তু সফল নারীদের মতে, যদি নারীরা নিজ লক্ষ্য অর্জনের জন্য পূর্ব-পরিকল্পনা করে নেন তবে পরিবার বা কর্মজীবন কোনটি পরিচালনা করতে তাকে অসুবিধায় পড়তে হবে না। কারণ আপনি যে ক্যারিয়ারেই থাকেন না কেন সর্বদা কাজের চাপ একই থাকবেনা।

একটু দূরদর্শিতা প্রয়োগ করলেই সন্তান গ্রহণ ও অন্যান্য সাংসারিক বাধ্যবাধকতা এবং কর্মজীবনের চাপ উভয়ই সুন্দরভাবে সামলানো সম্ভব। খোঁজ নিলেই নারীরা এ ব্যাপারে তাকে সাহায্যের জন্য অসংখ্য প্রতিষ্ঠান ও উপায় পেয়ে যাবেন। নারীরা নিজ অফিসেই সন্তানদের জন্য একটি কর্নার বা ডে কেয়ার এর ব্যবস্থা করতে পারেন। আরও উপায় জানতে নারীরা হিউম্যান রিসোর্স পলিসি (HRP) বা লিডারশিপের উপর বিভিন্ন কোর্স করেও নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারেন।

Featured Image: ru.diez.md

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *