Source: trend-online

ক্যারিয়ার যখন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং

ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়ের নাম আমরা সকলেই কম বেশি শুনেছি। বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে অন্যতম লাভজনক কর্মক্ষেত্রের একটি হচ্ছে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং। ব্যাংকিংয়ে গ্রাজুয়েশন অথবা অর্থনীতির কোর্স গ্রহণ করার পরে অনেকেই এই ব্যাংকিং সেক্টরের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। কারণ ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং সেক্টরে আপনি যেমন বড় অঙ্কের স্যালারি পাবেন, তেমনি নিজের কর্মদক্ষতার উপর ভিত্তি করে খুব দ্রুতই সফলকাম হতে পারবেন।

ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং আসলে কী ?

ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং শুধু ব্যাংকের নির্দিষ্ট কোন একক সেক্টর কিংবা ব্যাংকের বিশেষ কোন সার্ভিস নয়। মূলত ব্যাংকিং সেক্টরের বিশাল এক কর্মক্ষেত্র নিয়ে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং হয়ে থাকে।

Source: Wealth and Finance International

ট্রেডিং নিরাপত্তা, বিক্রেতাদের অর্থনৈতিক পরামর্শ, মূলধন নিয়ন্ত্রণসহ আরও কিছু বিষয় নিয়ে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং সেক্টরটি গঠিত হয়ে থাকে। আর এই সেবাগুলোর ভোক্তা হতে পারে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি মালিকানাধীন কোন কোম্পানি অথবা এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলো।

কী কী যোগ্যতা থাকতে হবে ?

এই সেক্টরে কাজ করতে হলে কর্মক্ষেত্র বিষয়ক গভীর গবেষণা করার মানসিকতা থাকতে হবে। সাথে সাথে প্রচুর পরিমাণে কাজের প্রেশার নেওয়ার মতো শারীরিক ক্ষমতা এবং সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার দক্ষতা থাকা জরুরি। চলুন জেনে নেয়া যাক, এছাড়া কী কী বিষয়ে আপনাকে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।

১. ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়ে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি অর্জন

আপনি ব্যাংকিংয়ের যে সেক্টরেই যোগ দিন না কেন, গ্রাজুয়েশনের কোন বিকল্প নেই। তবে সমস্যা হচ্ছে, ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়ের উপর সরাসরি পড়াশোনার জন্য এখনো কোন কোর্স বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়নি। ফলে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়ের কার্যবিধির সাথে মিলে যায়, এমন সাবজেক্টগুলোর মধ্যে একটি বাছাই করে নিতে হবে। এসব সাবজেক্টের মধ্যে একাউন্টিং, ম্যানেজমেন্ট, ফাইন্যান্স বা রাজস্ব, ব্যবসা ও অর্থনীতির সাথে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়ের সম্পর্ক বেশি হওয়াতে আপনি এগুলোর মধ্যে একটি সাবজেক্ট বাছাই করতে পারেন।

২. স্প্রেডশিট এবং প্রেজেন্টেশনের দক্ষতা

ব্যাংকিং কার্যকলাপ নিয়েই ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং। আর স্বাভাবিকভাবেই ব্যাংকের অন্যান্য প্রজেক্টের মতো আপনাকেও বিভিন্ন মিটিংয়ে প্রেজেন্টেশন দিতে হবে। এছাড়া একাউন্ট সেক্টরে চাকরিরত থাকলে প্রতিদিনই স্প্রেডশিটের উপর কাজ করতে হবে।

Source: Pinterest

আপনি যখন কর্মক্ষেত্রে যোগদান করবেন, তখন নতুন করে প্রেজেন্টেশন অথবা স্প্রেডশিটের উপর দক্ষতা বাড়ানোর সময় করে উঠতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় এসব বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধিতে জোরদার হন। কীভাবে প্রেজেন্টেশন করতে হয় সে বিষয়ে ভালো জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি মাইক্রোসফট অফিস প্যাকেজ বিশেষত পাওয়ার পয়েন্ট এবং স্প্রেডশিট প্রোগ্রাম এক্সেলে নিজেকে দক্ষ করে তুলুন।

৩. ইন্টার্নশিপ

বর্তমানে প্রায় সকল ভার্সিটিতে ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের ব্যবস্থা রাখা হয়ে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই  পড়াশোনা শেষে দুই থেকে চারমাসের জন্য ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা রাখা হয়। আপনি যদি ভেবে থাকেই সে সময়টুকু আপনার জন্য যথেষ্ট, তাহলে সেটা হবে বড় ধরনের ভুল। ভার্সিটির পড়াশোনা শেষ হওয়ার অন্তত এক বছর আগে থেকে কোন ব্যাংকে ইন্টার্নশিপ করার চেষ্টা করুন। তাতে যেমন আপনার অভিজ্ঞতা বাড়বে, তেমনি একই সাথে অন্যান্য  শিক্ষার্থীদের তুলনায় আপনার চাহিদা ও কাজের মান ভালো হবে।

৪. ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

হতে পারে, ব্যাংকিং সেক্টরের ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়ের কথা আপনি আজই প্রথমই শুনলেন। তাই আপনার ধারণা অস্পষ্ট। তবে আপনি যদি এই সেক্টর সম্পর্কে যদি আরো গবেষণা করে দেখেন, তাহলে বুঝতে পারবেন, এই সেক্টরটি কতটা বৃহৎ।

Source: Wealth and Finance International

এই পেশায় যোগ দেওয়ার পূর্বে বিশেষত শিক্ষার্থী থাকা অবস্থাতেই আপনাকে বিস্তারিত জানতে হবে। ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্কিত কাজগুলো, কোন কোন পেশায় কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয় সে সম্পর্কে গভীর গবেষণা করুন। মনে রাখবেন, আপনি যে ক্যারিয়ারেই নিজেকে দাঁড় করাতে ইচ্ছুক হয়ে থাকেনা না কেন, আপনাকে অবশ্যই সে ক্যারিয়ার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিতে হবে।

ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়ে কর্মক্ষেত্রসমূহ

ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়ে বেশ অনেক ধরনের কর্মক্ষেত্র থাকলেও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং পরিচয় কাজগুলো হচ্ছে ,

১. মার্জিং এবং এক্যুজেশন

অধিগ্রহণ এবং একত্রীকরণ সম্পর্কিত কাজগুলো সামলাতে দক্ষ ব্যাংক কর্মীদের এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। সাধারণত কর্পোরেট ক্লায়েন্টদের সুবিধা ও অসুবিধা দেখা ছাড়াও বিভিন্ন পরিকল্পনা করা ও উপদেশ দেয়া এই পদের কর্মীদের দায়িত্ব হয়ে থাকে।

Source: Wealth and Finance International

সাধারণত এই পেশাতে যোগদান করার জন্য ফিনান্সিয়াল মডেলিংয়ের উপর ভালো দক্ষতার পাশাপাশি বেশ কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

২. আন্ডার রাইটিং

কর্পোরেশন অথবা সরকারি প্রতিষ্ঠানের মূলধন বৃদ্ধি করার জন্য এই পদের কর্মকর্তা কাজ করে থাকেন। সাধারণত ক্লায়েন্টের আবেদন শুনে তাদের প্রতিষ্ঠানের ডেবিট ঠিক করা এবং তাদের মূলধন ঠিক রাখতে ক্লায়েন্টের কোম্পানির ট্রেডিং, বিক্রয়ের নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকাণ্ড, বাজার যাচাই করার পাশাপাশি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করার মতো কাজগুলোতে এই পদের কর্মীরা সহায়তা করেন।

আপনি যদি এই কাজে আগ্রহী হয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে জেনে রাখা ভালো যে, বেশিরভাগ সময়েই কর্মক্ষেত্রে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও আপনাকে ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করতে হতে পারে।

৩. ফান্ড রাইজিং

ক্লায়েন্টের পক্ষে পাবলিক মার্কেটিং করে তাদের অর্থনৈতিক উন্নতির বিষয়টি দেখে থাকেন একজন ফান্ড রাইজার কর্মকর্তা।

Source: bankingHQ

৪. ভেনচার ক্যাপিটাল

সাধারণত নতুন কোন প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে সেগুলো উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করেন এই পদে দায়িত্বরত কর্মীরা। কোম্পানির কোন সময়ে কোন ধরনের কাজ করলে আয় বাড়বে, ক্ষতির সম্ভাবনা হ্রাস হবে সেই বিষয়গুলো লক্ষ্য রেখে কোম্পানিকে সমৃদ্ধশীলভাবে গড়ে তোলাই তাদের উদ্দেশ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *