নতুন চাকরির প্রথম ৯০ দিন টিকে থাকার ১২টি দুর্দান্ত কৌশল

Photo: thepursuitofimpact.com

নতুন জায়গায় নতুন কাজে যোগ দেয়া মানে জীবনের সম্পূর্ণ নতুন একটি অধ্যায়ের শুরু। বেশ লম্বা এবং জটিল ধাপগুলো পেরিয়ে অবশেষে মেলে চাকরি নামে সোনার হরিণ।

যদিও আপনি অনেককে পেছনে ফেলে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।তবুও অনেক প্রশ্নই রয়ে যায়।অনেক অনিশ্চয়তা এসে ভিড় করে। যে পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিলেন, তা কি সঠিক হলো? আপনাকে নতুন পরিবেশে কীভাবে গ্রহণ করা হবে? আপনার কাজ ও মেধার কতোটা মূল্যায়ন করা হবে?

তবে এসব প্রশ্নের উত্তর আপনার উপরই নির্ভর করবে। এজন্য আপনার স্বপ্ন ও কল্পনার বাস্তব প্রয়োগ ঘটাতে হবে। আর সেজন্য এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের করতে হবে কাজে যোগদানের প্রথম ৯০ দিনের মধ্যেই।

প্রথম ৯০ দিনের প্রয়োজনীয় টিপস

১. প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন করুন

একজন শিক্ষানবিশ হিসেবে অধিকাংশ প্রশংসা কিংবা গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ পেয়ে যান চাকরিতে যোগদানের প্রথম ৯০ দিনের মধ্যেই। তাই সময় নিয়ে নিজেকে একজন দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তুলুন।

আপনার কোম্পানির মানব সম্পদ বিভাগের প্রধান কিংবা বসের কাছ থেকে কোম্পানির সম্পর্কে জেনে নিন। সব তথ্য জেনে নেবার পর কাজগুলো অবশ্যই নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করার চেষ্টা করুন।

২. চকচকে পৃষ্ঠা দিয়ে শুরু করুন নতুন চাকরিজীবন

Source: techrepublic.com

যেভাবে আপনি আপনার কোম্পানি সম্পর্কে জেনেছেন, তেমনি নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা গুলো খুঁজে বের করে কর্মক্ষেত্রে ব্যাবহার করুন। আগের কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাও আপনাকে সাহায্য করতে পারে এই ক্ষেত্রে। আপনার শক্তির শ্রেষ্ঠ ব্যবহার করুন,  দুর্বলতাগুলো জয় করার কৌশল অবলম্বন করুন।

৩. নতুন কাজ এবং নতুন কাজে নিজের অবস্থান সম্পর্কে জানুন

কাজের অংশ হিসেবে আপনি যে প্রতিষ্ঠানে যোগ দেবেন, ঐ প্রতিষ্ঠান সবসময় চেষ্টা করবে, আপনি যাতে তাদের পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেন, নিজেকে প্রতিষ্ঠানের অংশ হিসেবে ভাবেন। কিন্তু সেজন্য আপনাকেও চেষ্টা করতে হবে।

৪. নিজের সম্পর্কে সঠিক বার্তা পৌঁছে দিন

সবসময় চেষ্টা করুন প্রচলিত প্রথানুযায়ী পোশাক পড়তে। পোশাক যেন আপনাকে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে না পরিণত করে, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। আপনার পোশাকের চেয়ে চিন্তাভাবনার প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন।এমন কিছু করা কিংবা বলা থেকে বিরত থাকুন যা আশপাশের মানুষকে আঘাত করতে পারে। সেই সাথে  ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন আলাদা করে রাখুন।

Source: banco.com

৫. কর্মক্ষেত্রের জন্য আদর্শ আচরণ বজায় রাখুন

শুধুমাত্র কাজের দক্ষতার উপর নির্ভর করে আপনাকে নিয়োগ দেয়া হয় না। আপনার আচরণও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনার আচরণ ও যোগ্যতা ঐ প্রতিষ্ঠান কিংবা আপনার কাজের জন্য উপযুক্ত কিনা, তার উপর ভিত্তি করেই আপনাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। চেষ্টা করুন তা যথাযথভাবে পালন করতে এবং আপনার বসের প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ করতে।

Source:listenandlearn.com

৬. চেষ্টা করুন কম বলে বেশি শুনতে

যেহেতু আপনি নতুন, কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ নতুন এবং সম্পূর্ণ নতুন লোকজনের সাথে কাজ করতে হচ্ছে, তাই  আপনার উচিত আশপাশের পরিবেশের প্রতি বিশেষ নজর দেয়া। যতটা সম্ভব তাদের কথা শোনার ও বোঝার চেষ্টা করুন।

এছাড়া নতুন পরিবেশে, নতুন লোকজনের সাথে কাজ করতে কৌশল অবলম্বন করুন। সহকর্মীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন।একা একা বা  নিজের মতো করে কোন কাজ করবেন না।সবার মতামত নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করুন।

৭. কোনো ধরনের রাজনৈতিক মতামত দেয়া থেকে বিরত থাকুন

কাজে যাবার আগে পরিষ্কার মনে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করুন। কোন ধরণের রাজনৈতিক আলোচনায় নিজের মতামত দেয়া  এবং অফিস রাজনীতি থেকে বিরত থাকুন।

একজন নবিশ হিসেবে কোন ধরণের পক্ষপাতিত্ব কিংবা রাজনীতির মধ্যে  জড়িয়ে পড়া উচিত নয়। সেইসাথে  কোম্পানি থেকে সুবিধা পাবার জন্য কোন ধরণের কূটচাল দেওয়া কিংবা নিজের প্রভাব খাটানোর মনোভাব ত্যাগ করুন।

৮. মূল্যায়ন করতে শিখুন

নিজের সঠিক মূল্যায়ন পেতে চাইলে অন্যকেও সঠিক মূল্যায়ন করতে শিখুন।  আপনার সহকর্মীদের সহযোগিতা করুন, বিনিময়ে আপনিও সহযোগিতা পাবেন। তারা ভবিষ্যতে আপনার ক্যারিয়ার গড়ার জন্য চমৎকার সুযোগ তৈরি করতে পারেন।

আপনার সহকর্মীদের সাথে সফলতা ভাগ করে নিন । আবার যখন কোন ভুল হবে, চেষ্টা করুন, সবাই মিলে তার দায়ভার সামলাতে।

Source: unsplash.com

৯. চিন্তাশীল আচরণ করুন

একপক্ষের কোন মন্তব্য শুনে তাড়াহুড়া করে কোন সিদ্ধান্ত নেবেন না। যেহেতু আপনি নতুন, অনেকেই চাইতে পারেন, আপনি যাতে কাজ করতে না পারেন। সেজন্য আপনাকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।

অনেক ক্ষেত্রে কাজের বেলায়  নিজের মতামতের পরিবর্তে অন্যের মতামত গ্রহণ করতে হবে। আর আপনি যদি অন্যদের মতামত বা সিদ্ধান্তের সাথে একমত না হন, নিজের মতামত যুক্তিযুক্তভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করুন।

Source: newsroom.cnb

১০. উদাহরণ তৈরি করুন

কাজের স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখতে সতর্কতা অবলম্বন করুন। কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও সততার মাধ্যমে অন্যদের জন্য আদর্শ হয়ে উঠুন। নিজেকে মূল্যায়ন করতে শিখুন ও নিজের যোগ্যতাগুলো যাচাই করে নিন।

১১. সমতা বজায় রাখুন

সবক্ষেত্রে সেরা হওয়া সম্ভব না। তাই জোর করে নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার কোন প্রয়োজন নেই।

আর একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন,আপনি কাজ করার জন্য বাঁচেন না। বাঁচার জন্য কাজ করেন। তাই এ দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করবার চেষ্টা করুন।

Source: fotolia

১২. ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করুন

নতুন চাকরি সম্পর্কে অনেক উচ্চ ধারণা নিয়েই মানুষ কাজে যোগ দেয়। কাজ ,কাজের পরিবেশ সম্পর্কে উচ্চাকাঙ্খা তৈরি হতেই পারে। তাই বলে সব কিছু আদর্শ হবে, এমন ভাবাও বোকামি। তাই চাকরির নেতিবাচক দিকগুলোও যেন আপনার চোখ না এড়ায়,  সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।

আপনি কি শুধুই নতুন চাকরিতে যাচ্ছেন,নাকি আপনার ক্যারিয়ারের জন্য নতুন কোন সুযোগ নিচ্ছেন, সেদিকে নজর রাখুন। সুবিধা ও অসুবিধাগুলো সম্পর্কে ভাবুন, ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে সিদ্ধান্ত নিন।

নতুন কাজ,নতুন জায়গা, নতুন সহকর্মী লোভনীয় ব্যাপার হলেও এর মধ্যে সমস্যাও আছে অনেক। তাই প্রথম ৯০দিনে আপনাকে বিশেষভাবে সজাগ থাকতে হবে এসকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার ব্যাপারে।

 

One Ping

  1. Pingback:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *