ক্ষুদ্র ব্যবসায় যে ৫টি ভুল আপনাকে পথে বসাতে পারে

Source: Imgur

গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি  অর্জনের পরে অধিকাংশ যুবক কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য চেষ্টা করে থাকেন। তবে অনেকের মধ্যে নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ইচ্ছে দেখা যায়। উদ্যোক্তা হিসাবে আপনি যখন কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের চেষ্টা করবেন, তখন আপনাকে অত্যন্ত সর্তক থাকতে হবে। কারণ সামান্য অমনোযোগিতা এবং ক্ষুদ্র কিছু ভুল আপনার প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং দ্রুত প্রসারের জন্য আপনার থাকবে নানা সীমাবদ্ধতা। যেমন স্বল্প মূলধন এবং প্রচারণা ও উৎপাদনের জন্য সংক্ষিপ্ত সময়। আর এই সংক্ষিপ্ত সময়ে তাড়াহুড়োর ফলে কোন ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়।

আপনার নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নানা ধরনের ভুল এবং অসুবিধা এড়াতে নিম্নোক্ত টিপসগুলো নিয়েই এই আর্টিকেলটি লেখা হলো।

১. নিজস্ব ওয়েবসাইট

হতে পারে আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারণার জন্য ওয়েবসাইটের তেমন প্রয়োজনীয় নেই। তবে একটি ওয়েবসাইট আপনার প্ররোচনার শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমান বাজারে নানা ধরনের অনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান দেখা যায়। যেগুলোর প্রচারণা মূল মাধ্যম হয়ে থাকে ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়ার উপর ভিত্তি করে। আপনি যদি অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে থাকেন, সেক্ষেত্রে ফেসবুক পেজ আপনার সকল ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট।

তবে মানুষের আস্থার স্থানটি কখনোই ফেসবুক পেজ থেকে পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ ফেসবুকে পেজ খোলা সহজ আর ক্রেতাদের অর্থ নিয়ে প্রতিষ্ঠান যেকোনো সময়ে উধাও হয়ে যেতে পারবে। তাই পেজে আপনার পণ্যের সকল ধরনের তথ্য প্রদান করা হলেও নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট নির্মাণ করুন। আপাত দৃষ্টিতে এই টাকাটা জলে গেলো মনে হতেই পারে। তবে মানুষের আস্থা অর্জনের উদ্দেশ্যে ওয়েবসাইট নির্মাণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

Source: Park Marketing

কীভাবে নিজের প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটটি নির্মাণ করবেন সে সম্পর্কে ধারণা একেবারেই না থাকলে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সার সাইট যেমন, ওডেক্স, ফ্রিল্যান্সার, আপওয়ার্ক হতে ওয়েব ডেভেলপার ভাড়া করতে পারেন। সেখানকার কর্মীদের দিয়ে আপনি ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইট নির্মাণ করতে পারবেন।

অন্যদিকে আপনার যদি ওয়েব ডেভেলপিংয়ের বিষয়ে নূন্যতম জ্ঞান থাকে, সেক্ষেত্রে বিভিন্ন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ওয়েব বিল্ডিং টেম্পলেট টুলস এপ্লিকেশন ব্যবহার করতে পারেন। এমন একটি টুলস হচ্ছে মোবোরাইজ।

কম্পিউটার সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান আর ইউটিউবের টিউটোরিয়ালের সহায়তায় ঘরে বসেই দুই তিনদিনের মধ্যে নিজেই নিজের কাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। আর হোস্টিংয়ের জন্য ব্যবহার করতে পারেন উইক্স, গোড্যাডি, উইব্লি অথবা স্কোয়ার স্পেসের মত ফ্রি ওয়েব হোস্টিং সাইট।

২. কাজের ট্র্যাকিং না রাখা

বিখ্যাত এক মনীষী বলেছিলেন, “ভুল হওয়া অন্যায় নয়, যতক্ষণ মানুষ সেই ভুলগুলো থেকে নতুন কিছু শিক্ষা গ্রহণ করবে”। এখন আপনি যদি আপনার বাজেটের সর্বোচ্চ আয়, ব্যয় এবং কোন খাতে কী পরিমাণ খরচ হচ্ছে, সেসব বিষয়ে কোনো হিসাব না রাখেন, তাহলে ভুল হতে শিক্ষা নেওয়া দূরের ব্যাপার, কখনো জানতেই পারবেন না, কোন কোন কাজে আপনার ভুল হচ্ছে।

Source: Imgur

বড় বড় অনেক প্রতিষ্ঠানেও দেখা যায়, তারা তাদের বিভিন্ন খাতের সকল ধরনের বিনিয়োগে কী ধরনের লাভক্ষতি হচ্ছে, সে বিষয়ে লক্ষ্য না রেখে সর্বমোট মুনাফার হিসাব করে থাকেন। যেটা বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য তো অবশ্যই, ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের জন্য আরও বেশি বিপদজনক। তাই আপনার প্রতিটি সিদ্ধান্ত আর প্রজেক্টে গভীরভাবে লক্ষ্য রাখুন। খেয়াল করুন, কোন খাতে হতে কী পরিমাণ বিনিয়োগ করা হচ্ছে এবং এর ফলে কী পরিমাণ আয় হচ্ছে। কাজের এই ট্রাকিং রাখলে ব্যবসার প্রতিটি কাজের লাভ ক্ষতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আর ভবিষ্যতে আরো সফলতা অর্জনের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে।

৩. প্রতিযোগীরা কী করছে সে বিষয়ে খোঁজ না রাখা

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী থাকে। তাই নিজের প্রতিষ্ঠানের কাজের গতিবিধি লক্ষ্য রাখার মতো তাদের কার্যবিধি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। খেয়াল করুন, তারা কীভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। কোন স্ট্রাটেজি অনুসরণ করে নিজেদের বর্তমান অবস্থান ধরে রাখছে। কোন প্রজেক্টে লাভবান হচ্ছে আর কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে এবং সেটা কেন হয়েছে। এছাড়া খেয়াল করুন, প্রতিদ্বন্দ্বীরা মার্কেট ধরে রাখতে কোন কোন পরিকল্পনা শুধুমাত্র একবার ব্যবহার করেছে আর কোন কোন পদ্ধতিগুলো প্রতিনিয়ত ব্যবহার করছে।

Source: Park Marketing

তাদের কার্যবিধি লক্ষ্য রাখার ফলে আপনি যেমন একই পদ্ধতি ব্যবহার করে নিজের ব্যবসায় লাভবান হতে পারবেন, তেমনি তাদের ভুলগুলো থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবেন। বলা যায়, দ্রুত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য এই পদ্ধতির কোন বিকল্প নেই।

৪. অন্যদের মতোই প্রতিষ্ঠান চালানো

আমরা অনেকেই নতুন কোন প্রতিষ্ঠান তৈরি করি। এরপর একই ধরনের প্রতিষ্ঠান অন্যরা যেভাবে পরিচালিত করছে, সেই একই পরিকল্পনা অবলম্বন করতে থাকি। এই পদ্ধতি প্রায় সময়ই কর্মক্ষেত্রে সফলতা বয়ে আনলেও তা থেকে বড় ধরনের ভুলও হতে পারে। তাই অবশ্যই আপনাকে এই ধরনের চিন্তাভাবনা হতে বেরিয়ে আসতে হবে।

নিজে উদ্যোক্তা হওয়ার পূর্বে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান হতে আপনার প্রতিষ্ঠান কীভাবে ভিন্ন এবং কোন ধরনের সেবার জন্য ভোক্তারা প্রতিষ্ঠিত সে সকল প্রতিষ্ঠানের সেবা না নিয়ে আপনার কাছে আসবে, সে বিষয়গুলো বিবেচনা করুন।

৫. ক্লায়েন্ট কোন শ্রেণীর অথবা পেশার হবে সেটা বাছাই না করে মার্কেটিং করা

ধরুন, আপনি হাইস্কুলের পাশে একটু রেস্টুরেন্ট করলেন। উদ্দেশ্যে ফাস্টফুড বিক্রি আর অল্পবয়স্ক দম্পতিরা হবে প্রধান ভোক্তা শ্রেণী। কিন্তু দেখা যাবে স্কুল সংলগ্ন হওয়াতে স্কুলের বাচ্চারা আপনার মূল ভোক্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে স্কুলের বাচ্চাদের আনাগোনার কারণে মূল ভোক্তা শ্রেণী এই রেস্টুরেন্টে আসা থেকে বিরত রয়েছেন।

Source: Park Marketing

এছাড়া আপনি যদি আপনার ভোক্তাদের চাহিদা অনুসারে খাবার এবং ডেকোরেশন না করে থাকেন, তাহলে আপনার সফলতা হওয়ার সম্ভাবনাও কমে আসবে।  তাই প্রতিষ্ঠান খোলার পূর্বে ভৌগলিক অবস্থান অনুসারে মূল ভোক্তা শ্রেণী বাছাই করতে হবে এবং সেই চাহিদা অনুপাতে সার্ভিস দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *