মনিকা মিলারঃ একজন সফল নারী উদ্যোক্তার মাতৃত্বের গল্প

মনিকা মিলার একজন কন্টেন্ট রাইটার এবং কন্টেন্ট বিশেষজ্ঞ। তার নিজের কিছু জনপ্রিয় ব্লগসাইট রয়েছে। এছাড়াও যারা নতুন ব্লগসাইট নির্মাণ করছেন তাদের উপদেষ্টা হিসেবেও তিনি কাজ করে থাকেন। বিশেষত ব্লগসাইটে কন্টেন্ট কেমন হলে তা কম সময়ে জনপ্রিয়তা পেতে পারে এবং কী কী উপায়ে ব্লগ সাইট থেকে যায় করা যেতে পারে এ ব্যাপারে তিনি নতুন ব্লগারদের সুপরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ছবিসূত্রঃ careerwise.ie

এছাড়াও মনিকা মিলার একজন লেখক। তার লেখা ৩টি বই বাজারে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পাশাপাশি মনিকা একজন সুবক্তা হিসেবেও পরিচিত। এখানে আমরা মূলত জানব মনিকা মিলার নামক একজন নারী উদ্যোক্তা কিভাবে তার সংসার ও সন্তান সবকিছু সামলিয়েও কর্মজীবনে পেয়েছেন সফলতা। এখানে তার দেয়া একটি সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ তুলে ধরা হলো।

হ্যালো, আমি মনিকা মিলার, একজন কন্টেন্ট রাইটার এবং সম্প্রতি একটি খুব দুষ্ট ও মিষ্টি ছেলে সন্তানের মা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছি। আজকে আমি আপনাদেরকে জানাবো আমার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে,  আমার সুন্দর ব্লগসাইট আর লেখনীর পেছনের আমার গল্প।

ছবিসূত্রঃ VideoBlocks

মা হবার পর হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি, সন্তান লালন পালন কাকে বলে? ঘরে সারাদিন একটি শিশুর কান্না ও তাকে নিয়ে ছোটাছুটি ও ঘুম পড়ানোর অক্লান্ত চেষ্টা, অবশেষে শিশু ঘুমালে নিজের ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘুমিয়ে পড়া এবং অত্যন্ত অগোছালো একটি ঘরে দিনের পর দিন কাটিয়ে দেয়া।

এর মাঝেও সময়মতো ব্লগসাইটে কাজ না করলে হারাতে হবে পাঠক ও বিজ্ঞাপনদাতা। সাথে ঘরের কাজ তো আছেই। এ ব্যাপারে আমার স্বামীর সাহায্য ভোলার নয়। আমার ছেলে জন্ম নেবার আগেই পরবর্তীকালীন ঝামেলা মাথায় রেখে আমরা অনেক কাজ আগেই করে রেখেছিলাম।

ছবিসূত্রঃ Dissolve

আমি খুব ভালো করে জানতাম আমার ছেলে হবার পর কিছুদিন নতুন কন্টেন্ট নিয়ে ভাবার এবং তা সময়মতো লেখার যথেষ্ট সময় পাওয়া যাবেনা। আমার কিংবা ছেলের যে করোও অসুস্থতাও লেগে থাকতে পারে। এগুলো মাথায় রেখে কিছু নতুন কন্টেন্ট নিয়ে আগে থেকেই কিছু লেখা সংগ্রহ করে রেখেছিলাম যেন সময়মতো তা কেবল পাবলিশ করা যায়।

আমার ছেলে এনথনি হবার পর কিভাবে একেকটি দিন চলে যাচ্ছিলো বোঝার উপায় ছিল না। প্রায়ই আমার মন-মেজাজ প্রচন্ড খারাপ থাকতো( সম্ভবত এটিই পোস্ট প্যার্টাম ডিপ্রেশন)। অকারণেই স্বামীর সাথে ঝগড়া করে ফেলতাম, আবার পরে গিয়ে ক্ষমা চাইতাম-কারণ জানতাম বেচারার কোনো দোষ ছিলোনা। এভাবেই কিছুদিন কেটে গেলো। ঘরের কাজে আমার স্বামী অনেক সাহায্য করতো। তারপরও দিন শেষে মনে হতো যেন অনেক কাজ বাকি।

কখনও কখনও আমি নিজেকে সামলে নিতাম, সারাদিন ছেলের গগনবিদারী চিৎকার শুনেও হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করতাম। আবার কিছুদিন পর অধৈর্য হয়ে প্রচন্ড বিরক্তিতে নিজের চুল ছিঁড়তাম।

ছবিসূত্রঃ Visual OFAC

প্রতিদিন রাতে আমি পরদিন কী কী কাজ করতে হবে তার একটি লিস্ট করে রাখতাম। কখনও অনেক আগ্রহ আর মনোবল নিয়ে দিনের সব কাজ শেষ করতাম। আবার কখনও ক্লান্ত হয়ে সারাদিন ছেলেকে নিয়ে কাটানোর পর দিন শেষে লিস্ট বের করে দেখতাম কোনো কাজই করা হয় নি।

তাছাড়া আমি কেবল সদ্য মা-ই ছিলাম তা নয়, আমি একজন গৃহিণী, রাঁধুনি, প্রেমময়ী স্ত্রী, আমার ছেলের কেয়ারার এবং একজন ব্লগার। এই সব সামলানো আমার জন্য সহজ ছিলো না। কিন্তু যে বিষয়টি অবশেষে আমাকে এই সব কাজ করার ইচ্ছা ও মনোবল জুগিয়েছিল তাই আজ আপনাদেকে জানাবো।

প্রতিদিনের কাজ শেষ না হওয়াকে স্বাভাবিকভাবে নিতে শেখা

এনথনি জন্ম নেবার আগে আমি ব্লগসাইটের জন্য কিছু কন্টেন্ট প্রস্তুত করে রেখেছিলাম। এবার সেটা কেবল পাবলিশ করা এবং পেজে পোস্ট দেয়ার পালা। কিন্তু এই অল্প কাজের জন্য সময় করে ওঠাটাই অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। টার্গেট অনুযায়ী দুমাসের মধ্যে আমার কাজ শেষ হওয়ার কথা, কিন্তু তৃতীয় মাসেও আমি কাজ অর্ধেকও করে উঠতে পারিনি। কিন্তু এর জন্য হতাশ হওয়া বা বিরক্ত হওয়া কোনো কাজের কাজ নয়। ধীরে ধীরে এগুলোকে আমি স্বাভাবিকভাবে নিতে শুরু করলাম।

ছবিসূত্রঃ VideoBlocks

আমি নিজেকে বোঝালাম ব্যবসা বা আয়-উপার্জনই আমার জীবনের একমার লক্ষ্য নয়। আমি এনথনির মা-তাই এনথনির জন্য অন্যদিকে কিছুটা ত্যাগ করতেই হবে।

সেই মুহূর্তে আমার জন্য এনথনির মা , একজন স্ত্রী, গৃহিনী ও একজন ব্যবসায়ী, এই ৪টি ভূমিকায় সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কোনো একটির জন্য অন্যটিকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। তাই আমার সামনে যা কিছু আস্ত তা স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে শুরু করলাম, একটু সময় নিলাম এবং ধীরে ধীরে মানসিকভাবে সবকিছু পরিস্থিতি অনুযায়ী গুছিয়ে নিলাম।

এরপর এনথনিও একটু বড় হলো। কোন সময়ে কোন কাজটি করলে ভালো হবে তা মনে মনে স্থির করে নিলাম। এরপর ধীরে ধীরে এনথনিকে নিয়েই সব কাজ করতে থাকলাম। এনথনি প্রথম প্রথম সব কিছু বিশৃঙ্খল মনে হলেও ধীরে ধীরে সব নিয়ন্ত্রণে চলে এলো।

ছবিসূত্রঃ Illumine Training

যখন আপনি নিজের ইচ্ছানুযায়ী কিছুই করতে পারছেন না, তখন হতাশ বা বিরক্ত না হয়ে ধৈর্য ধরুন। একটি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ুন ও সবকিছু ঠিক হওয়ার জন্য একটু সময় দিন। মনোবল ঠিক রাখুন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী নতুন করে সবকিছু ভাবতে শুরু করুন।

Featured Image: iStock

2 Comments

Leave a Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *