Source: WARNER BROS. PICTURES

২০২০ সালঃ যখন গেমিং হবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ডিভাইসে

২০১৭ সালের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শুধু গত বছরেই সারাবিশ্বে গেম ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে সর্বমোট আয় ছিলো ৯১ বিলিয়ন ডলার। সুপারডাটা রিসার্চের মতে, এটি ছিলো সর্বোচ্চ আয়ের বছর। বর্তমানে আন্তর্জাতিক গেমিং মার্কেটগুলোতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে মোবাইল গেমিং এবং কম্পিউটার গেমিং। তবে পিছিয়ে নেই এক্স বক্স এবং প্লেস্টেশনের মতো গেমিং কনসোল ডিভাইসগুলো।

তবে বর্তমান সময়ে গেমিংয়ের যে সেক্টরটিতে দ্রুত উন্নয়ন ঘটছে, সেটি হচ্ছে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি গেমিং। এইচটিসি ভাইবের মতো হেডসেট গেমিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে ভিন্নরূপে। আপনি যদি হলিউডের ‘রেডি প্লেয়ার ওয়ান’ সিনেমাটি দেখে থাকেন, তাহলে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি গেম সম্পর্কে নিশ্চয় আপনার স্পষ্ট ধারণা রয়েছে।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ডিভাইসে গেমিংয়ের অভিজ্ঞতা অন্য মাত্রায় নিয়ে আসাতে অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, কবে নাগাদ এ ধরনের প্রযুক্তির দেখা মিলবে। প্রযুক্তির বর্তমান উন্নয়নের উপর ভিত্তি করে চলুন জেনে নেওয়া যাক, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি গেমিংয়ের বর্তমান অবস্থা।  

১. ওয়ারলেস হেডসেট

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি গেমিংয়ের কথা ভাবতেই প্রথম যে বিষয়টি মাথায় আসে, সেটি হচ্ছে ভিআর হেডসেট। রেডি প্লেয়ার ওয়ান মুভিতে মাঝারি আকৃতির ভিআর হেডসেটের ব্যবহার দেখা যায়। যা কিনা ওজনে হালকা, তারবিহীন এবং উচ্চ গ্রাফিক্স ধারণ করতে সক্ষম। ইতিমধ্যে এই প্রযুক্তির দেখা মিলছে এইচটিসি ভাইব এবং অকলাস রিফটের মাধ্যমেও। তবে এই হেডসেট চালানোর জন্য আপনাকে আলাদা কম্পিউটার অথবা মোবাইল ফোন সংযুক্ত রাখতে হবে।

Source: Pinterest

যদিও যথেষ্ট ডেভেলপমেন্টের অভাবে এখনো সকল ধরনের এপ্লিকেশন এই ভিআর ডিভাইসে ব্যবহার করা যাচ্ছেনা। আর ওয়্যারলেস সিস্টেমেও যথেষ্ট উন্নয়ন ঘটেনি। আপনি যদি খুব সূক্ষ্মভাবে এই ভিআর হেডসেটের ডিসপ্লের দিকে খেয়াল করেন, তাহলে এর পিক্সেলগুলো আলাদা করে দেখতে পারবেন। তবে আশা করা যাচ্ছে আগামী বছরের মধ্যে ডিসপ্লের মান আরও ভালো হবে এবং ওয়্যারলেস প্রযুক্তিতে যথেষ্ট উন্নয়ন ঘটবে।

২. ট্যাকটিক্যাল গ্লাভস এবং বডি স্যুট

ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে সবার আকাঙ্ক্ষিত বিষয়টি হচ্ছে স্পর্শের অনুভূতি। রেডি প্লেয়ার ওয়ান সিনেমার বেশ কিছু অংশে এর ব্যবহার দেখা যায়। ট্যাকটিক্যাল গ্লাভস এবং বডি স্যুট ব্যবহার করে যেমন গেমের এভাটারের নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তেমনি এগুলো স্পর্শের অনুভূতিও প্রদান করে।

ইউসেন্স নামের প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই হাতের গতিবিধি ট্রাকিংয়ের জন্য ডিভাইস তৈরি করেছে। যা কিনা কোন ধরনের গ্লাভসের সহায়তা ছাড়াই হাতের গতিবিধি ভিআর গিয়ার থেকেই নিখুঁতভাবে অনুসরণ করতে পারে। তবে ইউসেন্সের এই পণ্যে স্পর্শ অনুভূতি প্রদানের ক্ষেত্রে সমস্যা থেকে যায়। আর এই সমস্যা সমাধান করেছে হ্যাপএক্স নামে ভিআর প্রতিষ্ঠান। তাদের তৈরি এই ট্যাকটিক্যাল গ্লাভসে কয়েকশোর বেশি এয়ার পকেট রয়েছে।  সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংকুচিত এবং সম্প্রসারিত হয়ে এগুলো অনুভূতি সৃষ্টি করে।

Source: Kotaku UK

যখন কার্যক্ষেত্রে হ্যাপএক্সের এই ট্যাকটিক্যাল গ্লাভস পরীক্ষা করা হয়, তখন এর কার্যকারিতা ছিলো প্রত্যাশা থেকে বেশি।  এই যন্ত্র বাস্তব জীবনের মতো সূক্ষ্ম স্পর্শের অনুভূতি দিতে পারে।

তবে এই পণ্য এখনো বাজারজাত করা সম্ভব হয়নি। কারণ এই ট্যাকটিক্যাল গ্লাভস অপারেট করতে ডেক্সটপ সিপিউর মতো কমপ্রেসর যন্ত্রের প্রয়োজন হয়, যা কোনোভাবেই এর সাথে মানানসই নয়। তবে হ্যাপএক্সের মতো তারাও ভবিষ্যতে এই কম্প্রেসরকে ক্ষুদ্র আকৃতিতে তৈরি করতে পারবে। এছাড়া তাদের বডি স্যুট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

৩. ভিআর জগত

ভার্চুয়াল এই জগতে আমাদের অন্যতম প্রত্যাশা, উচ্চ গ্রাফিক্স দিয়ে সৌর জগতের মতো বিশাল এক জগত তৈরি করা। তবে এই বৃহদাকার ভার্চুয়াল জগত তৈরি করা কোনো সহজ বিষয় নয়। তবে এই সমস্যা মুক্তি দিতে পারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স।

Source: popularmechanics

আপনি যদি নো ম্যান’স স্কাই গেমটি খেলে থাকেন তাহলে এই বিষয়টি সহজে বুঝতে পারবেন।  নো ম্যান’স স্কাই গেমটিতে ম্যাথম্যাটিকস আর এলগরিদমের উপর ভিত্তি করে মাত্র ৬ জিবি ডাটায় ১৮ কুইন ট্রিলিয়ন (10^18) গ্রহ নক্ষত্র তৈরি করা  হয়েছে। যদি নো ম্যানস স্কাই গেমটিতে এই অল্প পরিমাণ ডাটার মধ্যে এত বড় জগত তৈরি করতে পারে তাহলে রেডি প্লেয়ার ওয়ানের মতো গেমিং জগত তৈরি করাও যে অসম্ভব নয়।

যদিও খুঁটিনাটির কথা বিবেচনা করলে অবশ্যই নো ম্যানস স্কাই বেশ পিছিয়ে থাকবে। তবে আশা করা যায়, দেড়শত থেকে থেকে সর্বোচ্চ আড়াইশো জিবি স্টোরেজ ডাটা এই হাই ডেফিনিশন গ্রাফিক্সের জন্য যথেষ্ট হবে।

৪. সার্ভার এবং ব্যান্ডউইথ

মাল্টিপ্লেয়ার গেমিংয়ের জন্য সার্ভারিং সিস্টেম এবং ব্যান্ডউইথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ বেশি প্লেয়ার যখন একই সার্ভারে গেম খেলেন, তখন তাদের মধ্যে ল্যাগিংস থাকলে গেমের মজা নষ্ট হয়ে যায়। রেডি প্লেয়ার ওয়ানের মতো ভার্চুয়াল গেমিংয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে সার্ভার এবং ব্যান্ডউইথ।

Source: Pinterest

আর এই ল্যাগিংস ঠেকাতে বর্তমানে অনেক গেম ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি সার্ভারে প্লেয়ারের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দিয়ে থাকে। যেমন প্লেয়ার ‘আননোন ব্যাটেলগ্রাউন্ডের’ মতো গেমগুলোতে ন্যূনতম ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ১৫০ জন প্লেয়ার প্রতি ম্যাচে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

তবে এই সার্ভার দক্ষতার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে ‘ইভ অনলাইন’ গেমটি। এই গেম খেলার সময় ল্যাগ ছাড়াই একই সার্ভারের মাধ্যমে ৬৫ হাজার খেলোয়াড় অংশ নিতে পারেন। যেটা বর্তমান প্রযুক্তির প্রেক্ষিতে অসাধারণ একটি বিষয়। তবে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সাথে সাথে  কমপক্ষে পঞ্চাশ লক্ষ থেকে এক কোটি প্লেয়ার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন সার্ভার সৃষ্টি করাও হয়তো সম্ভব হবে।

সবমিলিয়ে বলা যায়, প্রযুক্তি আমাদের ঘরের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে। শুধুমাত্র সার্ভার এবং ব্যান্ডউইথদের সমস্যা মিটিয়ে অন্যান্য বিষয়গুলোর আরো উন্নয়ন ঘটানো এবং একত্রীকরণ করা সম্ভব হলেই ২০২০ সনের মধ্যেই এই ভার্চুয়াল রিয়েলিটি গেমিং প্রযুক্তির দেখা মিলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *