ক্যারিয়ার পরিবর্তনের আগে যে জিনিসগুলো ভেবে রাখা প্রয়োজন

নিশ্চিত কিন্তু ধরাবাঁধা নিয়মের চাকরিজীবন অনেকের কাছেই লবণহীন তরকারির মতো মনে হয়। বিশেষ করে সৃজনশীল ব্যক্তিরা সবসময় নিজের মনের মতো করে কিছু করার তাগিদ অনুভব করেন। কিন্তু চাকরির ক্ষেত্রে সেই সুযোগ খুব কম থাকে। তাই অনেকেই চাকরি জীবনের নিশ্চিত ক্যারিয়ার ছেড়ে নিজের সৃজনশীলতাকে বিকাশ ঘটাতে অনিশ্চিত জীবনকেই সঙ্গী করে নেন। কিন্তু সকলেই যে কর্মজীবন পরিবর্তন করে সফল হন, তা কিন্তু নয়।  জীবনের এই বড় চ্যালেঞ্জে সফল হতে হলে জেনে রাখা উচিত কিছু টিপস।

ছবিসূত্রঃ Career Intelligence

ন্যানেট ওয়ং ফ্যাশন, খাদ্যদ্রব্য, সঙ্গীত ও চারুকলা বিষয়ের একজন সৃজনশীল ব্লগার, ফটোগ্রাফার এবং ভিডিও নির্মাতা। কিন্তু তার এই সৃজনশীল ক্যারিয়ারটি তিনি মাত্র দুবছর যাবৎ শুরু করেছেন। এর আগে তিনি ছিলেন একজন সরকারী স্বাস্থ্যকর্মী। কিন্তু সৃজনশীল ন্যানেট তার পূর্বের ক্যারিয়ার নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না। তাই তিনি মনে মনে এমন একটি ক্যারিয়ার খুঁজছিলেন যেখানে তিনি নিজের উদ্ভাবনী ক্ষমতার বিকাশ ঘটাতে পারবেন।

ছবিসূত্রঃ LinkedIn

অবশেষে তিনি স্বাস্থ্যকর্মীর কাজটি ছেড়ে দেন এবং ঝুঁকি নিয়েই নতুন করে লেখালিখির কাজ শুরু করেন। নতুন কর্মজীবনে তার প্রথম কাজ ছিল সম্পাদনা করা। ধীরে ধীরে তার নতুন ক্যারিয়ারেও পান সাফল্য। তার সাথে এক সাক্ষাতকারে তিনি জানান, কীভাবে তিনি একটি নিশ্চিত ক্যারিয়ার ছেড়ে অনিশ্চিত ক্যারিয়ারের জন্য পা বাড়ালেন এবং অবশেষে সাফল্যও অর্জন করলেন।

১. ক্যারিয়ার পরিবর্তন করার আগে যথাযথ প্রস্তুতি নিন

প্রতিষ্ঠিত ও নিশ্চিত ভবিষ্যত আছে এমন ক্যারিয়ার ছেড়ে অনিশ্চিত ক্যারিয়ারের পথে পা বাড়ানো সব সময় বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কোন নিশ্চিত ক্যারিয়ার বা কর্মজীবনে থাকা অবস্থায় আপনি যে সুবিধাগুলো ভোগ করছেন, কর্মজীবন না থাকলে তার অনেক কিছুই আপনি পাবেন না। কিন্তু তবুও যদি কখনও তা করতে হয় তবে এর জন্য দরকার যথাযথ পূর্বপ্রস্তুতি ও পরিকল্পনা।

তবে  প্রয়োজনে যে কোন সাহায্য কীভাবে পাবেন সে সম্পর্কে আগে নিশ্চিত হোন। পরবর্তীতে আপনি কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারেন এবং কীভাবে সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করবেন, সে সম্পর্কে আগে থেকেই কিছু ভেবে রাখা প্রয়োজন।

ছবিসূত্রঃ UW–Madison Continuing Studies

নতুন ক্যারিয়ারে অবশ্যম্ভাবী যে সমস্যার মুখোমুখি আপনাকে হতে হবে, তা হল অর্থসংকটে পরা। তাই যখনই আপনি বর্তমান ক্যারিয়ার ছেড়ে দেবার কথা ভাবছেন, তখন থেকেই ভবিষ্যতের জন্য কিছু কিছু করে অর্থ জমানো শুরু করে দিন।

আরেকটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে যে, আপনি যতই দক্ষ হয়ে থাকুন না কেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অবশ্যই আপনাকে যেটা সহ্য করতে হতে পারে, তা হল প্রত্যাখ্যান। আপনি যে সব প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে আগ্রহী, আপনার আবেদনপত্রে সব রকম যোগ্যতা থাকলেও সে সব প্রতিষ্ঠান থেকে আপনি কোন রকম সাড়া নাও পেতে পারেন। কিন্তু তাতে হতাশ হলে চলবে না।

ছবিসূত্রঃ Norstrem Associates

ন্যানেট যখন স্বাস্থ্যকর্মীর ফুলটাইম জবটি ছেড়ে দিয়ে তার স্বপ্ন পূরণের পথে হাঁটা শুরু করলেন, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অজস্রবার তার চাকরির আবেদন প্রত্যাখ্যাত করা হয়েছে। হাত খরচের টাকার জন্য তিনি ক্রাফটিং করতেন। আর খরচ কমাতে আগের বাসা ছেড়ে দিয়ে বন্ধুর বাসায় উঠেছিলেন। অনেক উথান পতনের পর অবশেষে তিনি সম্পাদনার কাজটি পান।

২. পূর্বের কোনো নেতিবাচক অভিজ্ঞতা যেন আপনাকে থামিয়ে না দেয়

ক্যারিয়ার জীবনে আপনার কোনো নেতিবাচক অভিজ্ঞতা থাকতেই পারে। কিন্তু সবসময় যে আপনাকে একই অবস্থার সম্মুখীন হতে হবে এমনটি ভেবে হতাশ হবার কোন কারণ নেই। স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করার সময় ন্যানেট  অনেক বৈষম্য দেখতে পান। যেখানে চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বর্ণিত যোগ্যতার ৫০ শতাংশ যোগ্যতা থাকলেই কোনো পুরুষের চাকরি নিশ্চিত হয়ে যেত, সেখানে একজন নারী আবেদনকারীর শতভাগ যোগ্যতা না থাকলে তাদের আবেদন গ্রহণযোগ্যই হতো না।

কিন্তু ন্যানেটের মতে, তার এই নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কারণে যে নতুন ক্যারিয়ারেও কেউ একই অবস্থার সম্মুখীন হবেন, এমনটা ভাবাটা বোকামি। বরং তিনি মনে করেন, কারো যদি নিজের ও নিজের যোগ্যতার উপর আত্মবিশ্বাস থেকে থাকে তবে কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণ করে দেখানো উচিত। লিংকডইন, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক সব সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজের যোগ্যতা ও কাজের প্রচার করতে হবে। এভাবেই একদিন নিজের কাজের জন্যই একটি ভালো চাকরির সন্ধান পাওয়া সম্ভব।

৩. দিনরাত কাজ করার জন্য শারীরিক ও মানসিক ভাবে প্রস্তুত হোন

ছবিসূত্রঃ Guardian Jobs

নতুন একটি ক্যারিয়ার শুরু করা সহজ নয়। ন্যানেট যখন নিজের কাজকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন, তখন তাকে দিনরাত অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। তার ছবি ও ভিডিওর বিশাল পোর্টফোলিওটি তৈরি করতে তাকে অনেক সময় দিতে হয়েছে। সারাদিন ধরে বেকারিতে বিভিন্ন জিনিস রাঁধা ও পরে তার ছবি তোলা, ভিডিও বানানো ইত্যাদি করতে হয়েছে। তাই হুট্ করে ক্যারিয়ার পরিবর্তন না করে নিজেকে আগে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করে নিন।

৪. কর্মজীবন আর ব্যক্তিগতজীবনে ভারসাম্য রক্ষা করে চলুন

একজন মানুষের সুস্থ ও সুখী জীবন যাপনের জন্য তার ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগতজীবন দুটোতেই ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন। যে কোন একটিতে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে অন্যটিতে অবহেলা করলে পরবর্তীতে যে কোনোদিক হারাতে হতে পারে, যা জীবনে অনেক দুঃখ বয়ে নিয়ে আসতে পারে। শুধু ক্যারিয়ারই জীবনের সব নয়। তাই ক্যারিয়ারে সময় ও শ্রম দেয়া যেমন জরুরি, তেমনি নিজের পরিবারের সাথে সময় কাটানো ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি খেয়াল রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Featured Image: blog.boq.com.au

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *